ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান সাবেক ছাত্রদল নেতা আনম উল্লাহ সানি সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা

দ্বিতীয় স্ত্রী নাকি চাকরির সুপারিশ, ভাইরাল ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন ছুড়লেন ডাকসু নেত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৬৭ বার

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিতর্কে এবার প্রশ্ন ছুড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ক্যাফেটেরিয়া ও রিডিং রুম সম্পাদক উম্মে সালমা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে উম্মে সালমা এমনভাবে প্রশ্ন সাজিয়েছেন যে, পাঠকদের অনেকেই সেটিকে ‘ওপেন বুক পরীক্ষা’ বলেও মন্তব্য করছেন।

পোস্টজুড়ে তিনি ভিডিওর সত্যতা নিয়ে রায় না দিয়ে বরং একের পর এক জবাবদিহির প্রশ্ন তুলেছেন।

উম্মে সালমার প্রথম প্রশ্ন, যদি ভাইরাল ভিডিওতে থাকা তরুণী সত্যিই এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী হন, তবে বিয়ের পরপরই তার চাকরির জন্য সুপারিশের প্রয়োজন পড়ল কেন? আর যদি চাকরির প্রতিশ্রুতি সম্পর্ক তৈরির অংশ হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এরপর তিনি তরুণীর বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষায়, যদি ওই তরুণী সদ্য এসএসসি পরীক্ষার্থী হন, তাহলে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক কি না, তা সরকারি নথির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া উচিত। অন্যথায় বিষয়টি শুধু সামাজিক বিতর্ক নয়, আইনি প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

রাজনৈতিক দিক থেকেও জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডাকসু নেত্রী। তার দাবি, অন্যান্য রাজনৈতিক দলে গুরুতর অভিযোগ উঠলে অন্তত সাংগঠনিক তদন্ত বা সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। কিন্তু এখানে দল যদি শুরু থেকেই নেতার পক্ষে অবস্থান নেয়, তাহলে দলের নৈতিক অবস্থানও প্রশ্নের মুখে পড়বে।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির কোনো নেতার ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল হলে তা নিয়ে তুলনামূলক কম আলোচনা হয়, কারণ বিএনপি নিজেদের রাজনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে ধর্মীয় নৈতিকতার দাবি করে না। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী নৈতিকতা ও চরিত্রকে রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। ফলে তাদের নেতাদের ক্ষেত্রে জনসাধারণের প্রত্যাশাও বেশি থাকে বলে মত দেন তিনি।

ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে উম্মে সালমা জানান, ইসলামে বিবাহ প্রকাশ্যে করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গোপন বিয়ে বা সম্পর্ককে কেন্দ্র করে যাতে বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়েও তিনি স্বচ্ছতার আহ্বান জানান।

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা করতে চান না। তবে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের জবাবদিহির মান সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি হওয়া উচিত।

তার মতে, ব্যক্তিগত জীবন ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্নমুক্ত না হলে সমাজকে নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়ার নৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়ে যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান সাবেক ছাত্রদল নেতা আনম উল্লাহ সানি

দ্বিতীয় স্ত্রী নাকি চাকরির সুপারিশ, ভাইরাল ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন ছুড়লেন ডাকসু নেত্রী

আপডেট টাইম : ১১:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিতর্কে এবার প্রশ্ন ছুড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ক্যাফেটেরিয়া ও রিডিং রুম সম্পাদক উম্মে সালমা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে উম্মে সালমা এমনভাবে প্রশ্ন সাজিয়েছেন যে, পাঠকদের অনেকেই সেটিকে ‘ওপেন বুক পরীক্ষা’ বলেও মন্তব্য করছেন।

পোস্টজুড়ে তিনি ভিডিওর সত্যতা নিয়ে রায় না দিয়ে বরং একের পর এক জবাবদিহির প্রশ্ন তুলেছেন।

উম্মে সালমার প্রথম প্রশ্ন, যদি ভাইরাল ভিডিওতে থাকা তরুণী সত্যিই এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী হন, তবে বিয়ের পরপরই তার চাকরির জন্য সুপারিশের প্রয়োজন পড়ল কেন? আর যদি চাকরির প্রতিশ্রুতি সম্পর্ক তৈরির অংশ হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এরপর তিনি তরুণীর বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষায়, যদি ওই তরুণী সদ্য এসএসসি পরীক্ষার্থী হন, তাহলে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক কি না, তা সরকারি নথির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া উচিত। অন্যথায় বিষয়টি শুধু সামাজিক বিতর্ক নয়, আইনি প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

রাজনৈতিক দিক থেকেও জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডাকসু নেত্রী। তার দাবি, অন্যান্য রাজনৈতিক দলে গুরুতর অভিযোগ উঠলে অন্তত সাংগঠনিক তদন্ত বা সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। কিন্তু এখানে দল যদি শুরু থেকেই নেতার পক্ষে অবস্থান নেয়, তাহলে দলের নৈতিক অবস্থানও প্রশ্নের মুখে পড়বে।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির কোনো নেতার ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল হলে তা নিয়ে তুলনামূলক কম আলোচনা হয়, কারণ বিএনপি নিজেদের রাজনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে ধর্মীয় নৈতিকতার দাবি করে না। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী নৈতিকতা ও চরিত্রকে রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। ফলে তাদের নেতাদের ক্ষেত্রে জনসাধারণের প্রত্যাশাও বেশি থাকে বলে মত দেন তিনি।

ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে উম্মে সালমা জানান, ইসলামে বিবাহ প্রকাশ্যে করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গোপন বিয়ে বা সম্পর্ককে কেন্দ্র করে যাতে বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়েও তিনি স্বচ্ছতার আহ্বান জানান।

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা করতে চান না। তবে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের জবাবদিহির মান সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি হওয়া উচিত।

তার মতে, ব্যক্তিগত জীবন ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্নমুক্ত না হলে সমাজকে নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়ার নৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়ে যায়।