নিজের বাল্যবিয়ে নিজেই বন্ধ করলেন শিক্ষার্থী

হাওর বার্তা ডেস্কঃ নিজের বিয়ে বন্ধ করতে ইউএনও অফিসে এসে লিখিত আবেদন দিয়েছে নাজমিন আক্তার (১৫) নামে এক ছাত্রী। তার আবেদন পেয়ে প্রশাসন ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। নাজমিন পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের মো. মোতালেব খানের মেয়ে। তিনি কদমতলা বালিকা দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণীর ছাত্রী।

জানা যায়, পিরোজপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাব্বির সাজ্জাদের কাছে ওই ছাত্রী নিজ হাতে লেখা আবেদন নিয়ে আসলে তিনি দ্রুত সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফকে ঘটনাস্থলে পাঠান।

নাজমিন আক্তার জানান, তার পরিবার থেকে তার বিয়ে ঠিক করেছিল। কিন্তু তার বয়স কম এবং এটি বাল্যবিবাহ বলে সে এই বিয়েতে রাজি হয়নি। পরিবর্তীতে বিষয়টি তার মাদরাসার সুপারকে জানালে তিনি ইউএনও সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করে তাকে লিখিত আবেদনসহ সেখানে পাঠান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিয়ে বন্ধ করে দেন।

কদমতলা বালিকা দাখিল মাদরাসার সুপার মুহা. আজাহার উদ্দিন জানান, প্রশাসন থেকে বাল্যবিবাহ বন্ধ করার জন্য মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে সচেতন করে আসছিল। এ ছাড়া পিরোজপুর সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেরও বাল্যবিবাহ রোধে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাই শিক্ষার্থী নাজমিত তার বাল্যবিয়ের কথা মঙ্গলবার তাকে জানালে তিনি নাজমিনকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন নিয়ে পাঠান।

পিরোজপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাব্বির সাজ্জাদ জানান, শিক্ষার্থী নাজমিন তার কাছে নিজের বাল্যবিবাহ বন্ধের জন্য লিখিত একটি আবেদন নিয়ে তার অফিসে আসেন। তার আবেদনে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুপার মুহা. আজাহার উদ্দিনের সুপারিশ ছিল। এরপর তিনি উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পাঠিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। নিজের বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে শিক্ষার্থী নাজমিনের ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার। তাকে দেখে অন্য শিক্ষার্থীরাও অনুপ্রেরনা পাবে।

পিরোজপুর সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, শিক্ষার্থীর লিখিত আবেদনের কারণে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে তাদের বাড়ি কদমতলায় গিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের সামনে শিক্ষার্থীর পিতা লিখিত অঙ্গিকার করেন তার মেয়ের ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত তার মেয়েকে বিয়ে দিবেন না।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থীর পিতা মো. মোতালেব হোসেন জানান, তার মেয়ের বিয়ের কোন আয়োজন তাদের বাড়িতে ছিলো না। শুধুমাত্র তার মেয়েকে দেখতে আসার কথা ছিলো। তার এলাকায় তার মেয়ের চেয়ে বয়সে ছোট অনেকের বিয়ে হয়েছে বিধায় তিনি তার মেয়েকে বিয়ের দেয়ার জন্য চেষ্টা করেছেন মাত্র।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর