,

ভুয়া কাবিনে বিয়ে করে ২ বছর ধর্ষণ, আটক ২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলায় এক তরুণীকে নাম-ঠিকানা গোপন করে ভুয়া কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে করে ২ বছর ধরে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গোসাইরহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ মূল আসামিসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে।

গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম শিকদার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ বছর আগে কোদালপুর ইউনিয়নের মিছির আলী মোল্লাপাড়া এলাকার আবু তাহের বাসী তার চাচাতো বোনকে ফুসলিয়ে ঢাকায় নিয়ে যায়। পরে সেখানে তার নাম-পরিচয় গোপন করে ভুয়া কাবিননামা তৈরির মাধ্যমে মেয়েটিকে আটকে রেখে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এর মধ্যে মেয়েটি গর্ভবতী হয়।

কথিত ভুয়া স্বামী আবু তাহের মেয়েটির গর্ভপাত ঘটায়। মেয়েটি ২ বছর পর ভুয়া কাবিননামার কথা জানতে পেরে আবু তাহেরকে নাম সঠিক করে কাবিননামা তৈরি করার জন্য চাপ দেয়। কাবিননামার জন্য চাপ দেওয়ার ফলে প্রতারক আবু তাহের বাসী মেয়েটির অন্য ছেলের সঙ্গে পরকীয়া প্রেম আছে বলে অপবাদ দেয়।

আবু তাহের কৌশলে তার স্ত্রীকে নতুন করে কাবিন করতে হলে স্ত্রীকে তালাক দিতে হবে বলে জানায়। মেয়েটি সরল বিশ্বাসে তালাকনামায় স্বাক্ষর দেয়। কিন্তু পরে সে আর কাবিন না করে টালবাহানা শুরু করে। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পরে গত শনিবার বিকালে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তিনজনের বিরুদ্ধে গোসাইরহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে গোসাইরহাট থানা পুলিশ মূল আসামি আবু তাহের বাসী (২৫) ও তার আপন ভাই শামীম বাসীকে (৩৫) গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

মেয়েটির বাবা নাছির বাসী বলেন, আমার মেয়েকে ফুসলিয়ে ঢাকায় নিয়ে যায় আবু তাহের বাসী। এরপর ভুয়া কাবিন করে আমার মেয়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমি এর বিচার চাই।

গোসাইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম শিকদার বলেন, ওই মামলায় আবু তাহের বাসী, শামীম বাসী ও রুবেল বেপারীকে আসামি করা হয়েছে। দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে শরীয়তপুর কোর্টের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর