,

করিমগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যায় স্বামী-ননাসসহ তিনজনের ফাঁসির আদেশ

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে মোছা. ফেনা ওরফে হেনা আক্তার (২৮) কে হত্যার দায়ে স্বামী ও ননাসসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১। বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ্ এই রায় দেন।

রায়ে তিন অভিযুক্ত মো. খোকন মিয়া (৩৭), জালাল মিয়া (৪৮) ও জরিনা খাতুন (৪২) কে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেয়া ছাড়াও মো. খোকন মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা, জালাল মিয়াকে ৩০ হাজার টাকা ও জরিনা খাতুনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া তিন আসামি ইমান আলী (৬৫), কমলা খাতুন (৬২) ও সাইদুর রহমান (৪৩) কে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময়ে আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিল। তারা সবাই করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের পাথারিয়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত তিন আসামির মধ্যে মো. খোকন মিয়া ইমান আলীর ছেলে, জালাল মিয়া মৃত হবি মিয়ার ছেলে এবং জরিনা খাতুন ইমান আলীর মেয়ে। তাদের মধ্যে খোকন মিয়া ও জরিনা খাতুন সম্পর্কে পরস্পরের ভাইবোন এবং জালাল মিয়া তাদের মামাতো ভাই।

অন্যদিকে নিহত মোছা. ফেনা ওরফে হেনা আক্তার পার্শ্ববর্তী গুজাদিয়া খৈলাকুরী গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছের মেয়ে ও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত মো. খোকন মিয়ার স্ত্রী।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০৪ সালে মো. খোকন মিয়ার সাথে মোছা. ফেনা ওরফে হেনা আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। ২০১৫ সালে হত্যাকাণ্ডের আগে ১১ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের ফাতেমা (৮) ও কুলছুম (৫) নামে দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।

ছোট মেয়ে কুলছুমের জন্মের পর থেকে মামাতো ভাই জালাল মিয়ার প্ররোচণায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে মোছা. ফেনা ওরফে হেনা আক্তারকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল।

অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে হেনা আক্তার বাবার বাড়ি থেকে খোকন মিয়াকে ব্যবসার জন্য ৪০ হাজার টাকা এনে দেয়। এছাড়া হেনার বাবার বাড়ি থেকে খোকন মিয়াকে একটি দোচালা টিনের ঘর তৈরিসহ একটি গাভী কিনে দেওয়া হয়।

কিছুদিন ভালো গেলেও আবারও হেনার কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। এতে হেনা অস্বীকৃতি জানালে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পুনরায় অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে।

এ পরিস্থিতিতে ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর ভোররাত ২টার দিকে আসামিরা হেনা আক্তারকে ঘুম থেকে তুলে যৌতুকের জন্য গালিগালাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হেনা আক্তারকে হত্যার পর লাশ বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিহত হেনা আক্তারের ছোট ভাই মো. সাইকুল ইসলাম বাদী হয়ে পরদিন ৫ অক্টোবর স্বামী মো. খোকন মিয়া, শ্বশুর ইমান আলী, শাশুড়ি কমলা খাতুন, ভাসুর সাইদুর রহমান, ননাস জরিনা খাতুন ও খোকন মিয়ার মামাতো ভাই জালাল মিয়া এই ছয়জনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর