,

লক্ষ্মীপুরে মেঘনার জোয়ারে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত

হাওর বার্তা ডেস্কঃ লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে জোয়ারের ফলে উপকূলীয় এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পূর্ণিমা এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নি¤œচাপের প্রভাবে নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়াসহ উঠান ও বসতঘরে পানি ওঠেছে। গত চার দিনে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনে তৈরি হয়েছে নানা দুর্ভোগ। কমলনগরের চরমার্টিন, চরকালকিনি, চরফলকন, পাটারিরহাট, সদরের চররমনী মোহন, রায়পুরে উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী ও রামগতির চরআবদুল্লাহসহ প্রায় ১৩টি ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কমলনগরের চরফলকন  উচ্চবিদ্যালয় ও চরকালকিনির মতিরহাট উচ্চবিদ্যালয় মাঠ জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে। বাধ্য হয়ে ওই পানি অতিক্রম করেই বাড়িতে ফিরতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।
কমলনগর উপজেলার চরফলকন ইউনিয়নের লুধুয়া বাগারহাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ফলকন উচ্চবিদ্যালয়। জোয়ারের কারণে ছুটি পেয়ে কোমরপানিতে নেমে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়া আশপাশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় পাঠদানে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত চার দিনের জোয়ারে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জোয়ারের তীব্র স্রোতে ও ভাটার টানে অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো ভেঙে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে। সড়কগুলো দিয়ে যাতায়াতে চরম বিপর্যয়ে পড়তে হচ্ছে। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার মতো গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না সড়কের কারণে।
সদর উপজেলা থেকে রামগতি উপজেলা পর্যন্ত প্রায় ৩৭ কিলোমিটার মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নেই। গেল একনেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। জানুয়ারিতে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও দৃশ্যমান নয়।
স্থানীয় ব্যক্তিরা অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদার কাজ রেখে পালিয়েছেন। শুধু বালু-সংকট দেখিয়ে তারা কাজ করছেন না। তাদের কারণে প্রতিদিন কেউ না কেউ নদীভাঙনে নিঃস্ব হচ্ছেন। কাছাকাছি দূরত্বে চাঁদপুরে বালু পাওয়া না গেলে অন্যত্র থেকে আনার ব্যবস্থাও তারা করেন না। উপকূলীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগে রেখে তারা বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে যাচ্ছেন।
কমলনগরের চরকালকিনি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়াম্যান ছায়েফ উল্যা বলেন, তীব্র স্রোতে উপকূলে জোয়ারের পানি ঢুকেছে। এতে অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো ভেঙে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। মানুষ খুব দুর্ভোগে রয়েছে।
রামগতি উপজেলার চরআবদুল্লাহ ইউপির চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মঞ্জুর বলেন, আমার ইউনিয়নটি মেঘনা নদীবেষ্টিত। প্রতিটি ভিটা জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে। মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। টানা জোয়ারের কারণে অনেক ঘরে চুলাও জ্বলেনি।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান বলেন, কয়েক দিন টানা জোয়ার হচ্ছে। এতে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা দুর্ভোগে রয়েছে। আমি সব সময় তাদের খোঁজ নিচ্ছি। এ ছাড়া বাঁধ নির্মাণকাজটিও বন্ধ রয়েছে। রোববার এমপি মহোদয় এলাকায় আসবেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।
লক্ষ্মীপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, প্রতি অমাবস্যা এবং পূর্ণিমার জোয়ারে মেঘনা নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে আড়াই ফুট পানি বৃদ্ধি পায়। এখন পূর্ণিমা এবং বঙ্গোপসাগরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংকেত থাকায় জোয়ারের অতিরিক্ত পানি উপকূলে উঠে পড়েছে। আগামী ১৫ তারিখ পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর