,

1651462003.Bandarban-Golden-Buddist-Te

বান্দরবানের নতুন শোভা ‘গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার’

হাওর বার্তা ডেস্কঃ পার্বত্য জেলা বান্দরবান। নদী, পাহাড় ঝর্ণা আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের পাশাপাশি এ জেলায় গড়ে ওঠেছে অসংখ্য বিনোদন স্পট।

পর্যটন জেলা হিসেবে বান্দরবানে ছুটে যাচ্ছেন অসংখ্য পর্যটক আর এবার পূজারিদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের মনোরম পরিবেশে সৌন্দর্য অবলোকনের জন্য পৌরসভা এলাকার লালমোহন বাহাদুর বাগান এলাকায় নির্মিত হচ্ছে ‘গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার’। আর এ বিহার নির্মাণের কাজ শেষ হলে পূজারিরা তাদের ধর্মীয় কার্যক্রম সম্পাদনের পাশাপাশি দর্শনার্থীরাও বিহারের সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারবেন বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের।

পর্যটন নগরী বান্দরবানের সৌন্দর্য দেখে বরাবরই মুগ্ধ হয় সবাই, আর এবার ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি সম্পাদনের পাশাপাশি ভ্রমণের জন্য নতুন দুয়ার উন্মোচন হচ্ছে ‘গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার’ তৈরির মধ্য দিয়ে। বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের লালমোহন বাহাদুর বাগান এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির নিজস্ব জমিতে প্রায় ২ একর জায়গা জুড়ে সুদক্ষ কারিগর আর স্থাপত্য শিল্পীর অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে নির্মাণাধীন রয়েছে এই ‘গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহারের’ কাজ। এই বিহার পুরোদমে চালু হলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অর্থনৌতিক অবস্থার উন্নয়নসহ পর্যটকদের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশাবাদ স্থানীয়দের।

 

লালমোহন বাহাদুর বাগান এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. সিদ্দিক বলেন, এ এলাকায় একটি মনোরম ‘গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহারের’ কাজ চলমান রয়েছে আর এই বিহারের কাজ চলমান অবস্থায় প্রতিদিনই অসংখ্য পর্যটক সেটি পরিদর্শনের জন্য ছুটে আসে।

তিনি আরো বলেন, এই বিহারটি দেখে যে কারো মন ভালো হয়ে যাবে আর এটি চালু হলে বান্দরবানের পর্যটন শিল্প আরো এগিয়ে যাবে আর আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য আগের চেয়ে আরো জমজমাট থাকবে।

লালমোহন বাহাদুর বাগান এলাকায় ব্যবসায়ী পরিমল দাশ  বলেন, এই গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার খুবই সুন্দর। এর রং দেখলেই মন ভরে যায়। এটি চালু হলে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা এখানে পূজা করবে এবং অন্য ধর্মালম্বীরা এর সৌন্দর্য উপভোগে ছুটে আসবে।

প্রধান সড়কের পাশে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতায় নির্মানাধীন এই গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার ইতোমধ্যে নির্মাণ হয়েছে থাইল্যান্ড ও মায়ানমারের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের কারুকাজের আদলে একটি ৫৭ ফুট উচ্চতার দন্ডায়মান বৌদ্ধ মূর্তি, একটি সুদৃশ্য গেইট, দুইটি সিংহ, দুইটি ড্রাগন, দুইটি হাতি, একটি প্যাগোডা, একটি ফোয়ারা আর একটি আকর্ষণীয় আসন সহ বিভিন্নস্থাপনা। বৌদ্ধ বিহারের জন্য ইতোমধ্যে মায়ানমার থেকে আনা হয়েছে তিনটি পিতলের এবং একটি শ্বেত পাথরের আকর্ষণীয় বৌদ্ধ মূর্তি। বিভিন্ন দেশ থেকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত অভিজ্ঞ কারুশিল্পীদের সুদক্ষ হাতে প্রতিদিনই চলছে বিহারের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ, আর এই বিহার সাধারণ জনগণের প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত হলে এর  রূপ দেখে পূজারি ও দর্শনার্থীরা বিমোহিত হবে বলে আশাবাদ সকলের।

 

বিহারে কাজ করা কারুশিল্পী কিমং রাখাইন  বলেন, আমি বাংলাদেশের অনেক স্থানে কাজ করেছি তবে বান্দরবানের এই গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহারের কাজ সম্পূর্ণ আলাদা। কয়েকটি ধাপে ধাপে আমরা পরিকল্পনা করে দন্ডায়মান বৌদ্ধ মূর্তি, সুদৃশ্য প্রবেশ দ্বার, বিশাল আকৃতির হাতি, ড্রাগন আর সিংহসহ মনোরম কয়েকটি স্থাপনা তৈরি করেছি যা দেখতে খুবই চমৎকার।

গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটি সাধারণ সম্পাদক মংহ্লা জানান, মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি তার জমিতে এই গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের কাজ করছেন আর সেজন্য আমরা একটি পরিচালনা কমিটি করে এই ধর্মীয় কাজে সংশ্লিষ্ট রয়েছি। এই বিহার বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের জন্য একটি তীর্থস্থান। এটি চালু হলে ৩ পার্বত্য এলাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানের পূজারিরা এখানে ছুটে আসবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি  বলেন, আমার ব্যক্তিগত উদ্যাগে এবং স্থানীয় দানবীরদের দান অনুদান আর বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সার্বিক সহযোগিতায় প্রায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে এই গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহারের কাজ চলমান রয়েছে। আর সমস্ত কারুকাজ শেষ হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই বিহার পূজারি ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এই গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার এ আগামীতেও আরো কাজ করা হবে এবং যে সমস্ত অনাথ শিশু লেখাপড়া করতে পারে না তাদের বিনামূল্যে আবাসিকভাবে বসবাসের সুবিধা নিশ্চিত করে পড়ালেখা করানো হবে।

তিনি বাংলানিউজকে আরো বলেন, গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার চালু হলে এখানে অনেক পূজারির আগমন ঘটবে এবং তাদের সার্বিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বিহার এলাকায় বিভিন্ন স্থাপনা ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলমান রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর