,

download (1)

কক্সবাজারে মাটির ফাটলের ভেতর আগুন, কৌতূহল-আতঙ্ক

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কক্সবাজার সরকারি কলেজের সামনে চলমান উন্নয়ন কাজের পাশে মাটি ফাটলের ভেতর থেকে হঠাৎ আগুনের লাভার মতো উদগিরণ বেরিয়েছে।

রোববার (১৭ এপ্রিল) ইফতারের আগ মুহূর্তে পথচারীরা আকস্মিক এ উদগিরণ দেখতে পেলে খবরটি দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

এতে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় লেগে যায়। উপস্থিত লোকজন স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও পোস্ট করেন। এ আগুনের উৎস নিয়ে শুরু হয় কৌতূহল। সঙ্গে ভর করে আতঙ্কও। চলে ধর্মীয় নানা আলোচনাও।

প্রায় ঘণ্টা দেড়েক আগুন উদগিরণের পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিভিয়ে দেন। তবে আগুন নেভালেও ধোঁয়া বের হচ্ছিল গভীর রাত অবধি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহী কামরান বলেন, বিকেলে একটি গর্ত থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন পথচারীরা। ধীরে ধীরে স্থানটি ফাটল আকারে বড় হতে থাকে। ফাটলের ভেতর তরতাজা আগুনের কয়লার মতো লাভা দৃশ্যমান হয়। যা উপস্থিত মানুষকে ভাবনায় ফেলে দেয়। খবরটি দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে লোকজন জড়ো হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে অনেকক্ষণ চেষ্টার পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

কক্সবাজার ফায়ার স্টেশনের সহকারী পরিচালক শাহাদাত হোসেন  বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের টিম প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পানি ছিটিয়ে আগুন নিভিয়ে দেয়। যেখানে আগুনের লাভা দেখা গেছে জায়গাটি ভরাট এলাকা। মাটির নিচে কোনো গাছ বা অন্যকোনো আগুন ধারক দ্রব্য থাকতে পারে। ভরাট মাটি ফেটে সেই দ্রব্যে কোনো না কোনো ভাবে আগুন লাগে। সেই দ্রব্যে লাগা আগুন দীর্ঘক্ষণ তরতাজা ছিল।

তবে এলাকাবাসীর মতে, একদিকে রেল স্টেশন ও মূল সড়কে ওঠার রাস্তা এবং অপরদিকে প্রধান সড়ক প্রসস্থকরণ ও ড্রেনেজ প্রকল্প সবগুলো একসঙ্গে চলছে। কোথাও থেকে মাটি তোলা হচ্ছে আবার কোথাও ভরাট হচ্ছে মাটি। আবার সেসব জায়গায় ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন প্লাস্টিক বর্জ্য ও ময়লা। যে জায়গায় আগুনের দেখা মিলেছে সেখানে স্থানীয় ও ব্যবসায়ীরা অনেকটা ডাস্টবিনের মতো ব্যবহার করতেন। সম্প্রতি রাস্তা সংস্কারের কাজ করার সময় ময়লার ওপর মাটি চাপা পড়ে। এছাড়া ওই জায়গা দিয়ে বিটিসিএলের কানেকশন ক্যাবল টানা হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে ক্যাবল থেকে কিংবা সিগারেটের আগুন থেকে প্লাস্টিকের বর্জ্যে আগুন লেগে তা ফাটলে পরিণত হয়েছে। ধীরে ধীরে আগুনের কয়লার সারি বড় হয়ে লাভার মতো হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান সিকদার বলেন, এলাকার বয়োবৃদ্ধ অনেক মুরব্বিদের দাবি অতীতে এমন দৃশ্য তারা কখনো দেখেননি। স্যাটেলাইট জীবন সম্পর্কে জানা ব্যক্তিরা পৃথিবীর নানা প্রান্তে পাহাড়ে, মাঠে মাটি ভেদ করে আগ্নেয়গিরির লাভা দেখলেও দেশের মাটিতে এমন দৃশ্য কল্পনাও করেনি। স্থানীয় আলেম সমাজ ও বয়োবৃদ্ধরা একে আল্লাহর অলৌকিক নিদর্শন বলে আখ্যায়িত করেছেন। এর মাধ্যমে হয়তো কেয়ামতের নমুনা বা কোনো বার্তা আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য উপস্থাপন করে থাকতে পারেন।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর