,

aaaaaaaaaa

মহাখালী-বনানী লেকেও চলবে ওয়াটার বাস, যাতায়াত হবে সহজ

রাজধানীর হাতিরঝিল হয়ে নর্দ্দা কালাচাঁদপুর-মহাখালী-বনানী পর্যন্ত লেক এলাকা সংস্কার ও উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কাজ শেষ হলে ওই এলাকার ১২ কিলোমিটার রুটেও চলবে ওয়াটার বাস। এতে যানজটের কবল থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবে এসব রুটে চলাচল করা নগরবাসী। প্রতিদিনের যাতায়াতে হাফ ছেড়ে বাঁচবে কয়েক লাখ মানুষ। রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও আসবে নতুনত্ব।

‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হাতিরঝিলের উপ-শাখা খাল (বনানী-বারিধারা-নাড়িয়া খাল) সংস্কার, পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি, নৌ-যোগাযোগ, বিনোদন সুবিধার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় হবে এ সংস্কারকাজ। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৩৫৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় ১২ কিলোমিটার লেকপাড় উন্নয়ন ও সংরক্ষণ করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ হবে। একইসঙ্গে থাকবে ৯ দশমিক ৭২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, ৮৭৮ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি ফুটওভার ব্রিজ, ছয়টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও ২২টি ভিজিটর শেড। লেকপাড়ে জনসাধারণের চলাচল সুবিধার পাশাপাশি থাকবে বিনোদনের ব্যবস্থা। ১২ কিলোমিটারের এ লেকপাড় ঘিরে নগরবাসীর জন্য গড়ে তোলা হবে বিনোদনকেন্দ্র। লেকের পানির গুণগত মানোন্নয়ন ও পানি সংরক্ষণেও থাকবে বিশেষ মনোযোগ।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম-সচিব (পরিকল্পনা অধিশাখা) এ এইচ এম কামরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, হাতিরঝিল হয়ে কালাচাঁদপুর-মহাখালী-বনানী পর্যন্ত লেক এলাকার সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ১২ কিলোমিটার রুটে ওয়াটার বাস চলাচলের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে জলাশয় উন্নয়নের পাশাপাশি নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও আসবে আমূল পরিবর্তন। এসব বিষয় মাথায় রেখেই প্রকল্পের প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নগর উন্নয়ন অনুবিভাগ) মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, ‘আমরা নতুন করে হাতিরঝিল হয়ে মহাখালী ও বনানী খাল সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। এর মাধ্যমে নৌপথে নতুন যোগাযোগ সৃষ্টি হবে। কয়েকটি ব্রিজও নির্মাণ করা হবে। হাতিরঝিলে যেমন ওয়াটারবাস চালু আছে, অনেকে সহজে যাতায়াত করতে পারেন, একইভাবে এই লেকে যাতায়াত সুবিধা চালু করা হবে।’

প্রকল্পটির উদ্দেশ্য
লেকের পাড় সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, পানির গুণগতমান ও প্রবাহ বাড়ানো, পানি সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে নৌ যোগাযোগ স্থাপন, লেক সংলগ্ন এলাকার পরিলক্ষিত পানি নিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। বাইসাইকেল লেনসহ হাঁটার রাস্তাও থাকবে। প্রকল্পের আওতায় কেনা হবে একটি জিপ, দুটি পিকআপ ও চারটি মোটরসাইকেল।

লেকপাড়ে ওয়াকওয়ে ও নান্দনিক সেতু
প্রকল্পের আওতায় এক কিলোমিটার খালপাড়ের উন্নয়ন, এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খালপাড়ের ভবন রক্ষা, স্লাজ অপসারণসহ লেকের উন্নয়নে নানা ধরনের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে ১২ কিলোমিটার রুটের ঢাল রক্ষা, ২০০ মিটার রিটেইনিং দেওয়াল নির্মাণ, ৪ হাজার ৭০৬ মিটার ওয়াকওয়ে, সাড়ে ৯ কিলোমিটার ভাসমান ওয়াকওয়ে ও ৮১০ মিটার বাউন্ডারি পিলার নির্মাণ করা হবে।

একইসঙ্গে এ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৯৪৮ মিটারের দুটি ফুটওভার ব্রিজ, ১৭ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার ড্রেনেজ, শিশুতোষ বিনোদনকেন্দ্র, ১৪ হাজার বৃক্ষরোপণ, ১০ হাজার মিটার সবুজায়ন, ১৯১টি বসার বেঞ্চ, এক হাজার ৭৮০টি ডাস্টবিন, তিনটি সৌর জলজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও একটি ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হবে। এছাড়াও নির্মাণ হবে ৫০টি টিকিট কাউন্টার, ঘাট, পন্টুন, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, ভিজিটর শেড নির্মাণ ও পাবলিক টয়লেট। পদ্মপুকুর, ইলেক্ট্রমেকানিক্যাল, ওয়াইফাইসহ সিসিটিভি সিস্টেম ও বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থা থাকবে।

প্রকল্পের সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী লেকের পাশে বিনোদন সুবিধা পাবে। ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে বাস্তবায়িত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নৌ যোগাযোগের জন্য লেকপাড়ের স্থানীয় এবং ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানের মানুষ ভোগ করবে লেকের সুবিধা।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরীতে যে কয়েকটি জলাশয় অবশিষ্ট আছে এর মধ্যে অন্যতম হাতিরঝিল থেকে কালাচাঁদপুর-মহাখালী হয়ে বনানী কবরস্থান পর্যন্ত লেক। রয়েছে হাতিরঝিল থেকে নাড়িয়া পর্যন্ত খাল। হাতিরঝিল থেকে বালু নদী পর্যন্ত জলাশয়টি এখন রামপুরা-বনশ্রী খাল নামে পরিচিত। বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের অভাবে রাজধানীর অনেক খাল-জলাশয় দখল হয়ে গেছে। এসব খালে নেই পানিপ্রবাহ। ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় হয়ে ওঠা এ জলাশয়গুলো থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে দূষিত হচ্ছে ঢাকার বাতাস। এ অবস্থায় রাজধানীর জলাশয় ও জলাধার বাঁচানো জরুরি। শহরের সৌন্দর্যবর্ধনে জলাধার সংরক্ষণ, এর মধ্য দিয়ে জীববৈচিত্র্যের সম্প্রসারণ, অক্সিজেন পুনর্নসরবরাহ এবং একইসঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

বিগত কয়েক বছরে রাজধানীর খাল-জলাশয়গুলোর পানির গুণগতমান খারাপ হলেও বিপরীতে আশপাশের অবকাঠামোগত অবস্থার উন্নতি দৃশ্যমান। ওয়াকওয়ে, বিভিন্ন জায়গায় লোহার বেড়া ও অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণে জলাশয়গুলোর অবস্থা খুবই শোচনীয়। লেকপাড়ের যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে চরম অবনতির মুখে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ।

নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অবস্থা নিরসনে জরুরিভিত্তিতে রাজধানীর সব লেক, লেকপাড়, পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রয়োজন। লেক ও লেকের পাড় সংরক্ষণের মাধ্যমে চলাচল ব্যবস্থার উন্নতিই নয়, বরং সেসব এলাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত করা সম্ভব হবে।

বেগুনবাড়ি খালসহ হাতিরঝিল এলাকার সমন্বিত উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প, বারিধারা লেক প্রকল্পের সঙ্গে হাতিরঝিল হয়ে কালাচাঁদপুর-মহাখালী-বনানী পর্যন্ত লেক এলাকার সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের মিল রয়েছে। যেখানে সবগুলো প্রকল্পের আওতায়ই পার্শ্ববর্তী ভূমির উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টির কার্যাবলি অন্তর্ভুক্ত।

যান্ত্রিক নগরীতে পরিবহন সমস্যা ক্রমেই প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে। জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষকে কর্মস্থলে ছুটে বেড়াতে হয়। তীব্র যানজটের কারণে নির্ধারিত গন্তব্যে যথাসময়ে পৌঁছাতে না পারাড় বেদনা নিত্যদিন নগরবাসীকে পীড়া দেয়। রাজধানী ঘিরে থাকা নদীগুলো ২০১২ সালে ঘটা করে উদ্বোধন করা হয়েছিল ওয়াটার বাস। লক্ষ্য ছিল রাজধানীবাসীর যাতায়াতের কষ্ট লাঘব করা। গাবতলী থেকে বাবুবাজার, বাদামতলী ও সদরঘাট পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার পথ যানজটমুক্ত, আরামদায়ক ও কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে এ উদ্যোগ নেয় বিআইডব্লিউটিসি। সে প্রকল্পটি অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়ে। তবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাতিরঝিলে এফডিসি থেকে মেরুল বাড্ডা ও গুলশান গুদারাঘাটে বর্তমানে চালু আছে ওয়াটার বাস সার্ভিস, যা যানজটের এ নগরীতে নগরবাসীকে খানিকটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে।

সূত্র: জাগো নিউজ

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর