ঢাকা ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জিয়া শিশু একাডেমির আয়োজনে ‎‘শাপলাকুঁড়ি’র প্রাথমিক বাছাই শুরু প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সরকারের : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ক্যানসার চিকিৎসায় ৩৬ কোটি অনুদান মেসির চুক্তিতে সেতু বিভাগের সচিব হলেন আবদুর রউফ নিউইয়র্কের পথে ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত স্পিকার ও ইসির : শিশির মনির ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ হতে পারে জাতিসংঘ সম্মেলনের সাইডলাইনে পাকিস্তান-চীনের নতুন সীমান্ত চুক্তিতে ভারত কেন ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর পৃথিবীর ইতিহাসে বিশেষ মুহূর্ত: মাহদী আমিন দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ২ শতাংশেরও নিচে

রোজা না আসতেই দাম বেড়েছে বেগুনের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ এপ্রিল ২০২২
  • ২০৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রতি বছর রমজান এলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। খুলনার বাজারে প্রায় সব পণ্যের দাম আরেক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে রোজার আগের দিনে। ছোলা, চিড়ার দাম মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও চিনির দাম একটু বেড়েছে। তবে পেঁয়াজের মূল্য কেজি প্রতি ৪-৫ টাকা কমেছে।

এবার নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও এখনও তা ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন খোদ বিক্রেতা ও ক্রেতারা। এরজন্য টিসিবিকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন অনেকে। কারণ টিসিবি’র সরবরাহ করা তিন প্রকার পণ্যের কারণেই এবার হঠাৎ করে দাম আকাশচুম্বি হয়নি বলেই ধারণা তাদের।

তবে রোজার জন্য অতি প্রয়োজনীয় সবজি হিসেবে পরিচিত বেগুন ও শসার দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। শনিবার (২ এপ্রিল) নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বেগুন প্রতিকেজি মানভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত তিন দিন আগেও ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি চিনিতে দু’টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা ৪০ টাকা থেকে বেড়ে কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর টুটপাড়া জোড়াকল বাজারের ব্যবসায়ী রবিউল, বাদশা, মাসুম ও নাজমুল জানান, দু’দিন ধরে বেগুনের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। খুলনার ট্রাক টার্মিনালের কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা কিছু না জানিয়ে হঠাৎ এ পণ্যটির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তাদেরকে সরবরাহ স্বল্পতার কথা জানানো হয়েছে। ফলে বেশি দরে কিনে এনে এ দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

একই বাজারের ব্যবসায়ী রানা ও মনি বলেন, আমদানি কমে গেলে সেই জিনিসের দাম একটু বাড়ে। আর রোজার মাসে তো বাড়বে এটাই এখন স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোকামের ব্যাপারীরা তাদের বেগুন সংকটের কথা জানিয়েছে। তবে কতদিন বাজারদর এরকম থাকবে তা এই ব্যবসায়ীরা বলতে পারেননি।

তারা জানান, বাজারে চাহিদা আছে কিন্তু সরবরাহ কম। তাই বেগুনের দাম বেড়েছে। শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে রোজা পাঁচ অথবা ছয়টা অতিক্রম করলে এ পণ্যটির দাম কমে যাবে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

রূপসা সন্ধ্যা বাজারের ব্যবসায়ী মতিন হাওলাদার, গোলাম রসুল বলেন, বেগুনের সংকট হওয়ার কথা নয়। ভালো ফলন হয়েছে এবার। রমজান এলে পাইকারী ব্যবসায়ীরা মূল্যবৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় নামেন। এর ফলে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কাটা যায়।

তবে বাড়েনি ছোলা, মুড়ি ও চিড়ার দাম। বেড়েছে চিনির দাম। প্রতিকেজি চিনি এখন ৮০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

নগরীর বড় বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আহাদ আলী বলেন, রমজান এলে প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়ে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রতিকেজি ছোলার দাম পাঁচ টাকা কমে গিয়ে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সামান্য বেড়েছে মুড়ির দাম, আগের দাম ৯০ টাকার জায়গায় একশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিড়া ও বেসন যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।

এই বাজারে খুচরা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২৩ টাকা।

জোড়াকল বাজারের ক্রেতা পপি বলেন, বেগুনের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দু’দিন আগেও বেগুন ৪০ টাকায় কিনেছি। আজ এটি কিনতে এসে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। দাম না কমলে এবার ইফতারে বেগুনি খাবেন না বলেও জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়া শিশু একাডেমির আয়োজনে ‎‘শাপলাকুঁড়ি’র প্রাথমিক বাছাই শুরু

রোজা না আসতেই দাম বেড়েছে বেগুনের

আপডেট টাইম : ১১:৪৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ এপ্রিল ২০২২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রতি বছর রমজান এলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। খুলনার বাজারে প্রায় সব পণ্যের দাম আরেক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে রোজার আগের দিনে। ছোলা, চিড়ার দাম মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও চিনির দাম একটু বেড়েছে। তবে পেঁয়াজের মূল্য কেজি প্রতি ৪-৫ টাকা কমেছে।

এবার নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও এখনও তা ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন খোদ বিক্রেতা ও ক্রেতারা। এরজন্য টিসিবিকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন অনেকে। কারণ টিসিবি’র সরবরাহ করা তিন প্রকার পণ্যের কারণেই এবার হঠাৎ করে দাম আকাশচুম্বি হয়নি বলেই ধারণা তাদের।

তবে রোজার জন্য অতি প্রয়োজনীয় সবজি হিসেবে পরিচিত বেগুন ও শসার দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। শনিবার (২ এপ্রিল) নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বেগুন প্রতিকেজি মানভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত তিন দিন আগেও ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি চিনিতে দু’টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা ৪০ টাকা থেকে বেড়ে কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর টুটপাড়া জোড়াকল বাজারের ব্যবসায়ী রবিউল, বাদশা, মাসুম ও নাজমুল জানান, দু’দিন ধরে বেগুনের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। খুলনার ট্রাক টার্মিনালের কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা কিছু না জানিয়ে হঠাৎ এ পণ্যটির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তাদেরকে সরবরাহ স্বল্পতার কথা জানানো হয়েছে। ফলে বেশি দরে কিনে এনে এ দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

একই বাজারের ব্যবসায়ী রানা ও মনি বলেন, আমদানি কমে গেলে সেই জিনিসের দাম একটু বাড়ে। আর রোজার মাসে তো বাড়বে এটাই এখন স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোকামের ব্যাপারীরা তাদের বেগুন সংকটের কথা জানিয়েছে। তবে কতদিন বাজারদর এরকম থাকবে তা এই ব্যবসায়ীরা বলতে পারেননি।

তারা জানান, বাজারে চাহিদা আছে কিন্তু সরবরাহ কম। তাই বেগুনের দাম বেড়েছে। শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে রোজা পাঁচ অথবা ছয়টা অতিক্রম করলে এ পণ্যটির দাম কমে যাবে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

রূপসা সন্ধ্যা বাজারের ব্যবসায়ী মতিন হাওলাদার, গোলাম রসুল বলেন, বেগুনের সংকট হওয়ার কথা নয়। ভালো ফলন হয়েছে এবার। রমজান এলে পাইকারী ব্যবসায়ীরা মূল্যবৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় নামেন। এর ফলে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কাটা যায়।

তবে বাড়েনি ছোলা, মুড়ি ও চিড়ার দাম। বেড়েছে চিনির দাম। প্রতিকেজি চিনি এখন ৮০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

নগরীর বড় বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আহাদ আলী বলেন, রমজান এলে প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়ে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রতিকেজি ছোলার দাম পাঁচ টাকা কমে গিয়ে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সামান্য বেড়েছে মুড়ির দাম, আগের দাম ৯০ টাকার জায়গায় একশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিড়া ও বেসন যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।

এই বাজারে খুচরা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২৩ টাকা।

জোড়াকল বাজারের ক্রেতা পপি বলেন, বেগুনের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দু’দিন আগেও বেগুন ৪০ টাকায় কিনেছি। আজ এটি কিনতে এসে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। দাম না কমলে এবার ইফতারে বেগুনি খাবেন না বলেও জানান তিনি।