,

image-506242-1641541970

হতাশায় দিন কাটছে রাজবাড়ীর পানচাষিদের

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশ ও বিদেশে মিষ্টি পানের ব্যাপক চাহিদা থাকায় রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার পানচাষিরা দিন দিন আশার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু করোনার প্রভাবে পান রপ্তানি বন্ধ ও দাম কম থাকায় পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা। অনেক চাষি পানের বরজ ভেঙে অন্য ফসল চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

বালিয়াকান্দি কৃষি অফিসসূত্রে জানা গেছে, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৮৮ হেক্টর জমিতে মিষ্টি পান ও সাচি পানের আবাদ করা হয়েছে। ৬৫৮টি মিষ্টি পানের বরজ, ১৫৬টি সাচি পান বরজসহ ৮১৪টি বরজে ৮৮ হেক্টর জমিতে পানের চাষ হয়।

মিষ্টি পান চাষে উর্বর ভূমি হিসেবে পরিচিত এ উপজেলা। এ অঞ্চলের পানের সুখ্যাতি বহু পুরনো। এখানে সাধারণত দুই জাতের পান চাষ হয়। মিষ্টি পান আর সাচি পান। এখানকার মিষ্টি পান দেশের চাহিদা মিটিয়ে পৃথিবীর আটটি দেশে রপ্তানি করা হতো।

তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করলে প্রতি বছর কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। অনেক সময় পানচাষিদের বেকায়দায় পড়তে হয়। কারণ পান চাষের বিষয়ে কৃষি বিভাগ থেকে কোনো পরামর্শ পান না চাষিরা।

পানচাষি গনেশ মিত্র জানান, বালিয়াকান্দির আড়কান্দি, বেতেঙ্গা, চরআড়কান্দি, ইলিশকোল, স্বর্প বেতেঙ্গা, খালকুলা, বালিয়াকান্দি, বহরপুর, যদুপুর এলাকায় ব্যাপক পানের আবাদ করা হয়। পূর্ব পুরুষের আমল থেকে তারা পানের চাষ করে আসছেন। তবে এখন পানের দাম একেবারেই কম হওয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে পানচাষিদের। ৮০টি পান আগে ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হতো, সেই পান এখন মাত্র ৪-৫ টাকা দামে বিক্রি হয়। তবে বাজারে একেকটি পান কিনে খেতে গেলে ঠিকই ৫ টাকা দিয়ে খেতে হচ্ছে। তা হলে আমাদের অবস্থা কী আপনারাই বোঝেন।

গনেশের ছেলে কলেজছাত্র সুজন মিত্র বলেন, এ অঞ্চলের সাচি ও মিষ্টি পান প্রচুর জন্মে। মিষ্টি পান রাজবাড়ী জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার চাহিদা মিটিয়ে ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, নেপাল, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া রপ্তানি করা হতো। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হতো। করোনার কারণে বিদেশে পান রপ্তানি বন্ধ হয়ে পড়েছে। বাজারে পানের দাম একেবারে নেই। এ কারণে আমরা পান চাষ বাদ দিয়ে অন্যচাষে ঝুঁকছি।

পানচাষি আলোক রাহা বলেন, করোনার প্রভাবের কারণে পানে লোকসান গুণতে হয়। এ বছর লাভের আশা করছিলাম। তবে কয়েক দিনের ঘন বৃষ্টির কারণে পানের দামই নেই। কৃষি কর্মকর্তারাও কোনো পরামর্শ দিতে পারেন না। তাই বিষয়টি নিয়ে গবেষণার দাবি জানানো হয়। আগে বিদেশে পানের প্রচুর চাহিদা থাকলেও এখন আর পান বিদেশে পাঠাতে পারছি না। দাম না থাকার কারণে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে আমাদের।

অপর পানচাষি পংকজ ইন্দ্র বলেন, অর্থকরী ফসল পান হলেও তারা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। সরকারিভাবে তাদেরকে সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করলে পান চাষকে আরও লাভজনক ও জনপ্রিয় করে তোলা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এখানকার মিষ্টি ও সাচি পান জেলার চাহিদা মিটিয়ে পৃথিবীর আটটি দেশে রপ্তানি করা হতো। এখন রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। তবে পান রপ্তানি করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পানচাষিদেরকে সব সময় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর