,

Untitled-1-2111080429

হুমকির মুখে টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রামসার সাইট খ্যাত মিঠাপানির জলাভূমি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও ধরমপাশা উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর। এ হাওরকে বলা হয় দেশি মাছের আধার বা ‘মাদার ফিশারিজ।’ তবে বর্তমানে হিজল-করছ গাছ কেটে উজাড়, অতিথি পাখি হত্যা ও যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলাসহ নানা কারণে হাওরের জীববৈচিত্র্য দিন দিন হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয়বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাওরে ৪টি আনসার ক্যাম্প (মুজরাই, গোলাবাড়ি, রামসিংহপুর, রংসী) থাকলেও সংশ্লিষ্টরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কমিউনিটি গার্ডের সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেটের নৌকার মাঝিসহ স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কৌশলে রাতের আধারে হাওরের গাছ কেটে সাবাড় করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

গত ২৭ অক্টোবর রাতে নাম না জানা কিছু দুর্বৃত্ত টাঙ্গুয়া হাওরে বিভিন্ন অংশের ছোটবড় বাগানের বেশ কিছু হিজল-করচ গাছ কেটে নিয়ে যায়। পরে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির ও শ্রীপুর (দক্ষিণ) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ সরকার সরেজমিন টাঙ্গুয়া হাওর পরিদর্শন করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু হাওরের গাছ নয় প্রতিবছর শীত মৌসুমে সুদূর সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অতিথি পাখিও রেহাই পায় না শিকারির হাত থেকে। টাকা দিলেই অতিথি পাখি মেলে খাবারের পাতে। গোপনে পাওয়া যায় বিভিন্ন বাজারেও। প্রতি বছর এভাবে অতিথি পাখি শিকার করায় শীত মৌসুমে হাওড়ে পাখির আগমন কমে আসছে।

বৃক্ষপ্রেমিক আব্দুল আমীন বলেন, ‘গাছ আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ। গাছ রক্ষা করার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়, আমাদেরও। এভাবে হাওরের গাছ কাটা হলে একদিন হয়তো হাওরে কোনো গাছ থাকবে না। তাই সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে টাঙ্গুয়া হাওরের প্রাণ রক্ষা করতে হবে।’

তাহিরপুরের ইউএনও রায়হান কবির বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা কিছু গাছ কেটেছে, খবর পেয়ে সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। অভিযুক্তদের ধরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি আমরা। আর অতিথি পাখিদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে নিয়ে মিটিং করেছি। হাওরে কমিউনিটি গার্ড সদস্যরাও সক্রিয় থাকবে। তারা যদি কোনো অনিয়ম করে, আর সেই খবর আমরা পাই তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিথি পাখি শিকার বন্ধে টাঙ্গুয়া হাওরের আশপাশ এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে মাইকিং করা হবে। তারপরেও যদি কেউ পাখি শিকারের চেষ্টা চালায় তাহলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

প্রসঙ্গত, আশির দশকে জয়নাল আবেদিন নামক এক বৃক্ষপ্রেমিক সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে টাঙ্গুয়া হাওরে প্রায় এক লাখ হিজল-করচ গাছের চারা লাগিয়েছিলেন। আবার তিনিই শিমুল গাছও রোপণ করে গড়ে তুলেছেন দেশের বৃহত্তম শিমুল বাগান।

টাঙ্গুয়ায় জয়নাল আবেদিনের লাগানো হিজল-করচের চারাগুলোই এখন দৃষ্টিনন্দন বাগানে রূপ নিয়েছে। তবে প্রাকৃতিকভাবেও জন্ম নিয়েছে অনেক গাছ। এসব গাছ কেটে হাওরের সৌন্দর্য নষ্ট করার বিষয়টি প্রশাসন কঠোরভাবে দমন করলে একদিকে রক্ষা পাবে হাওরের গাছগুলো অপরদিকে দৃষ্টি নন্দন রূপে প্রাণ ফিরবে প্রকৃতির এমনেই মনে করছেন স্থানীয়রা।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর