,

8

মদনটাকের ডেরায় আনন্দের বন্যা

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মদনটাক’ একসময় দেশের সব জেলাতে এ পাখিটির দেখা মিললেও কালের বিবর্তনে এখন এই পাখিটি স্থান নিয়েছে মহাবিপন্নের তালিকায়।

তবে গাজীপুরের শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক প্রতিষ্ঠালগ্নে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি মদনটাক উদ্ধার করে আনা হয়েছিল। পার্কের বেষ্টনীতে এ পাখিটিকে তার প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করে দেওয়ায় বড় হচ্ছে তার পরিবারের সদস্যের সংখ্যা।

সাফারী পার্কের বন্যপ্রাণী সুপারভাইজার (বন্যপ্রাণী পরিদর্শক) আনিছুর রহমান বিষয়টি জানিয়েছেন।

আনিছুর রহমান জানান, এ পাখি সাধারণত বড় বিলের কাছে, নদীর মোহনায় বসবাস করে থাকে। তবে  আমাদের দেশ ছাড়াও সারা বিশ্বে এর দেখা মেলা ভার। স্থানীয়ভাবে অনেকেই মদনটাক পাখিকে হারগিলাও বলে থাকে। মদনটাক প্রধানত জলচর পাখি হিসেবে পরিচিত। এরা সিকোনিডাই পরিবারভূক্ত বিধায় এদের অন্যান্য প্রজাতির ন্যায় এরও নগ্ন ঘাড় এবং মাথা রয়েছে। মাছ, ব্যাঙ, সরীসৃপ এবং অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণী এদের প্রধান খাদ্য। প্রজনন মৌসুম ব্যতীত একাকী নিভৃতচারী পাখি হিসেবে এরা পরিচিত। ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত এরা বাসা বাঁধে। ডালপালা দিয়ে তৈরি বাসায় স্ত্রী মদনটাক ৩-৪টি পর্যন্ত ডিম দেয়। ২৮/৩০দিন পর ডিম থেকে ছানার জন্ম হয়। এরা তেমন কোনো আওয়াজ করে না। এদের ওজন হয় ৫/৭কেজি পর্যন্ত।

কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণীবিদ আলম শাইন জানান, প্রকৃতিতে মদনটাক এক সময় খুব দেখা গেলেও বর্তমানে প্রাণীটি মহাবিপন্ন। তবে মাঝে মধ্যে সুন্দরবন ও কুড়িগ্রামের দিকে এর দেখা মিলতো, বর্তমানে তাও শোনা যাচ্ছে না। সাফারী পার্কের বেষ্টনীতে বন্ধ পরিবেশে মহাবিপন্নের তালিকায় থাকা মদনটাক থেকে বাচ্চা পাওয়া এটা অবশ্যই একটি ভাল দিক। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় হয়তো এই সাফারী পার্ক থেকেই মদনটাক পরিবেশে ফিরতে পারবে।

সাফারী পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে জলবায়ু পরিবর্তন, বসবাসের জায়গা নষ্ট, ফুড চেইনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় মদনটাকের অস্তিত্ব আজ মহাবিপন্নের তালিকায়। তবে আমাদের সাফারী পার্কের মদনটাকের ডেরায় তাদের বসবাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করায় ছানার জন্ম হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সবার মধ্যেই আশার সঞ্চার হচ্ছে।’

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর