,

kaliakair-0001-(3)-copy-samakal-602824586bd7f

সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ঢাকার ধামরাইয়ে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি রবি শষ্যের চাষাবাদে নতুন করে যোগ হয়েছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ। কৃষকরা আগ্রহ নিয়ে সূর্যমুখী চাষ শুরু করেছে ধামরাই উপজেলায়। সূর্যমুখী চাষে সুফল পাওয়ার আশায় কৃষকদের আগ্রহও ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকরা ধান, ভুট্টা ও গমের আবাদের সাথে নতুন করে সূর্যমুখী ফুল চাষ যোগ করেছেন। এবারই প্রথম ধামরাইতে সূর্যমুখী ফুল চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজছেন কৃষকরা।

সূর্যমুখী ফুল দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি আগ্রহ নিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষজন আসছে ক্ষেতে। শুধু ধামরাই নয়, আশপাশের এলাকার লোকজনও সূর্যমুখী ফুল চাষ দেখছে আর আনন্দ উপভোগ করছে।

সূর্য হেলে পড়ার সাথে সাথে ফুলগাছও সেদিকে হেলে পড়ে। এ যেন একটির সাথে আরেকটির গভীর মেলবন্ধন। একটিকে ছাড়া অপরটি চলতেই পারে না। বিকেল বেলায় ভ্রমণ পিপাসুদের ভিড় জমতে থাকে। সূর্যসুখীর সাথে চলে সেলফি তোলার হিড়িক।

ধামরাইয়ের অনেক এলাকায়ই সূর্যমুখীর চাষ শুরু করছে কৃষকরা। অনেকে আবার পরীক্ষামূলকও চাষ করছে। কেউবা নিজেদের পরিবারে ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ করতে নিজ জমিতে সবজি, ভুট্টা ও গম চাষের পাশাপাশি সূর্যমুখী চাষ করছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পুরো উপজেলায় ৫শ’ জন কৃষককে ৫শ’ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জনপ্রতি ১ কেজি করে বীজ দেয়া হয়েছে। নতুন করে ধামরাইতে সূর্যমুখী ফুল চাষ শুরু করায় কৃষি অফিসার ও উপসহকারী কৃষি অফিসারগণ নিয়মিত দেখভাল করতে প্রায়ই কৃষকদের কাছে যাচ্ছেন। কখন কি করতে হবে, কোন সার-বিষ দিতে হবে, সে বিষয়ে কৃষি অফিসারগণের পরামর্শ নিচ্ছেন কৃষকরা।

উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের বাড়িগাও এলাকার কৃষক সুশীল সরকার বলেন, আমার অনেকদিনের শখ সূর্যমুখী ফুল চাষ করা। কিন্তু কারও কাছ থেকে কোনো সঠিক পরামর্শ পাইনি। হঠাৎ করে উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সূর্যমুখী ফুলের বীজ পাই। তাই বেশি আগ্রহ নিয়ে সূর্যমুখী চাষ করি। প্রথমে ধারণা ছিলো জমি থেকে যা ফসল আসবে তা দিয়ে নিজের পরিবারের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ হলেই হবে। কিন্তু এখন আরো বেশি করে চাষ করার ইচ্ছা পোষণ করছি।

তিনি আরো বলেন, কৃষি অফিসের সহায়তায় বীজ পেয়ে আমি ৫২ শতক জমি লিজ নিয়ে চাষ শুরু করেছি। সার, সেচ ও কীটনাশক মিলিয়ে এ পর্যন্ত চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকার মতো। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে লাভ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ। তবে প্রথমবার, তাই কি পরিমাণ সুফল পাবো তা ঠিক ধারণা করতে পারছি না।

কৃষক অনিক সরকার জানান, ধান বা গম চাষে যে পরিমাণ খরচ হয়, সূর্যমুখী চাষে তার চেয়ে কম খরচ হচ্ছে। তবে লাভ মনে হয় তুলনামূলকভাবে বেশি হবে। যে কারণে আগামীতে অনেক কৃষকই সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকবে।

তিনি বলেন, আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি, তাই আমার একটু ক্ষতি হয়েছে। এখন আর ক্ষতির কোনো চিন্তা নেই।

উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই সূর্যমুখী চাষ চোখে পড়ে। তবে প্রথমে কেউ বেশি করে চাষ করতে সাহস পায়নি। কিন্তু এখন আর কোনো সমস্যা নেই বলে জানাচ্ছেন কৃষকরা।

উপজেলার কুশুরা এলাকার মিনহাজ বলেন, সূর্যমুখীর কাণ্ড, মূল এবং গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া বিক্রি করে অতিরিক্ত আয়েরও একটা সুযোগ মিলবে। তাছাড়া চাষে তেমন কোনো ঝামেলা নেই। দু’একবার পানির সেচ এবং ফুলগুলো একটু দেখে রাখলেই হলো।

সূর্যমুখী ফুল চাষ নিয়ে কুল্লা ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক বলেন, উপজেলায় প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী ফুলের চাষ হচ্ছে। এর আগে ব্যাপকভাবে এর চাষ হয়নি। তাই অনেকেই এর আবাদ বা চাষ সম্পর্কে ভালো জানি না। আবার অনেকেই সৌন্দর্য বর্ধনকারী ফুল হিসেবে বাড়ির উঠানে লাগিয়েছেন। বিকেলে আমাদের এলাকায় অনেক নতুন মুখ এই ফুল দেখতে আসে। ফুল গাছের সাথে সেলফি তুলছে তারা।

স্থানীয়রা জানান, যেহেতু ধামরাই উপজেলায় এই ফুল চাষ প্রথম, তাই উপজেলা কৃষি অফিসাররা যদি কৃষকদের নিয়ে এর ভালো-মন্দ দিক আলোচনা করে, তাহলে আগামীতে আরো ব্যাপক আকারে চাষ হবে। এখনি এটি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। অনেক কৃষকই এটার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখাচ্ছে। আগামীতে স্থানীয়ভাবে এর ব্যাপকতা অনেক বাড়বে এবং কৃষকরাও সূর্যমুখী চাষে লাভবান হবেন।

উপজেলার খরারচর এলাকায়ও সূর্যমুখী ফুল চাষ লক্ষ্য করা যায়। খরারচর এলাকার কয়েকজন কৃষক বলেন, সবজি চাষের পাশাপাশি এবার সূর্যমুখী ফুল চাষ শুরু করেছি। ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ হবে। সূর্যমুখী ফুলের বীজ থেকে যে তেল হয় তাতে কোনো ভেজাল নেই। প্রথম প্রথম একটু চিন্তায় আছি। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কোনো সমস্যা হবে না।

উপজেলা কৃষি অফিসার আরিফুল হাসান বলেন, ধামরাই উপজেলায় প্রায় ৫শ’ জন কৃষককে ৫শ’ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুল চাষের জন্য ১ কেজি করে হাইকন নামে সূর্যমুখীর বীজ দেয়া হয়েছে। ২০-২১ অর্থ বছরে পূর্ণবাসন কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত কৃষকদের এই বীজ দেয়া হয়। সূর্যমুখী বীজের তেল স্বাস্থ্যসম্মত। দেশের মানুষের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ করতে সূর্যমুখী ফুল চাষের বিকল্প নেই। এই চাষে অন্যান্য ফসলের তুলনায় খরচ কম।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর