,

5

সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে ভোজ্য লবণ আমদানি

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি থামছে না। প্রতিমাসেই ৭০/৮০ টন সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদিত গত বছরের লবণ এখনো অবিক্রিত অবস্থায় চাষিদের কাছে পড়ে রয়েছে। লবণ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে বছরে শিল্পের জন্য প্রায় ৩ লাখ মেট্টিক টনের মতো সোডিয়াম সালফেটের প্রয়োজন হয়। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা ডিউটি ফাঁকি দিয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি করছে। ফলে দেশীয় লবণ শিল্প হুমকির মধ্যে পড়েছে।

লবণ মিল মালিকরা জানান, গত ৩ বছর যাবত্ লবণের বাজারে অসমপ্রতিযোগিতা চলছে। গার্মেন্টসসহ কয়েকটি শিল্পের জন্য সোডিয়াম সালফেটের প্রয়োজন হয়। রপ্তানিজাত পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার হয় এই জন্য সরকার তাদের ৩০ শতাংশ শুল্কে সোডিয়াম সালফেট আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। আর সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানিতে শুল্কের হার ৯২ শতাংশ। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও শিল্প প্রতিষ্ঠান শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেদারছে সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি করছে। পরে তা দেশীয় বাজারে ভোজ্য লবণ হিসেবে বিক্রি করছে। আমদানি করা লবণের দাম কম হওয়ায় দেশীয় লবণ বাজারে প্রতিযোগিতায় ঠিকতে পারছে না। আমদানিকৃত সোডিয়াম ক্লোরাইড কেজিতে আমদানি খরচ পড়ে ১২ টাকা। আর দেশের বাজারে তারা কেজি ১৮/২০ টাকায় বিক্রি করছে। অন্যদিকে দেশীয় লবণ কেজি ৩৫ টাকার কমে বিক্রি করা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি পরিতোষ কান্তি সাহা ইত্তেফাককে বলেন, সরকারের নজরধারীর অভাবে সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে ভোজ্য লবণ আমদানি হচ্ছে। বছরে প্রায় ১১ লাখ টন সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি হয়েছে। অথচ সোডিয়াম সালফেটের বছরে চাহিদা প্রায় ৩ লাখ টনের মতো। বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে একাধিক বার তুলে ধরেছি। সোডিয়াম সালফেট আমদানিতে কম শুল্কের সুযোগ নিচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। আমরা বাজারে প্রতিযোগিতায় ঠিকতে পারছি না। অনেক লবণ মিল বন্ধ হয়ে গেছে। চাষিদের কাছে লবণ অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।’

বিসিক জানায়, এখন লবণ উত্পাদনের ভরা মৌসুম চলছে। চাষিরা মাঠে নেমেছে। গত ২৯ জানুযারি মাস পর্যন্ত দেশে ৯৪ হাজার মেট্টিক টন লবণ উত্পাদিত হয়েছে। গত বছর একই সময়ে উত্পাদন হয়েছিল ১ লাখ ৬ হাজার মেট্টিক টন। চাষিরা এবার অনেকটা বিলম্বে মাঠে নেমেছে। আগে প্রতিমণ লবণ ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। গত কিছুদিন যাবত্ দাম কিছুটা বেড়ে মণ ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিসিক সূত্র জানায় সরকার লবণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ব্যাপারে জাতীয় সংসদের বিল পেশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন আইনে দেশে লবণের চাহিদা ২২ লাখ মেট্টিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নতুন আইন পাশ হলে শিল্প বা খাবারের জন্য কোনো ধরনের লবণ আমদানি করা যাবে না।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর