,

3

নেত্রকোনায় মুজিববর্ষের ঘর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

বিজয় দাস নেত্রকোনাঃ মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না সরকারের এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নেত্রকোনায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে প্রশাসন থেকে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও তাতে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন উপকারভোগী ও স্থানীয়রা। জেলার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দার লেংগুড়া আশ্রয়ন প্রকল্পে এই অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘর বানানোর কাজ শেষের পথে। তবে উপকারভোগীদের অভিযোগ, নিচু মেঝে হওয়ায় বন্যার সময় পানিতে ডুবে যাবে এই ঘর।ঘর বানানোর কাজ শেষের পথে। তবে উপকারভোগীদের অভিযোগ, নিচু মেঝে হওয়ায় বন্যার সময় পানিতে ডুবে যাবে এই ঘর।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, মুজিববর্ষে গৃহহীন থাকবে না কেউ, সরকারের এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নেত্রকোনায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে ১০৩০ জন গৃহহীনকে ঘর বানিয়ে দেওয়ার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরমধ্যে জেলার ১০ উপজেলায় বিভিন্ন শ্রেণিতে এসব উপকারভোগীর মাঝে সরকারি ঘর হস্তান্তর করার সব প্রক্রিয়াও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এরমাঝে শুধুমাত্র কলমাকান্দায় ১০১টি ঘর নির্মাণ কাজ চলমান।
কিন্তু কলমাকান্দা লেংগুড়া ইউনিয়নের আশ্রয়ন প্রকল্পে ১৬টি ঘর নদী তীরবর্তী হওয়ায় বর্ষাকালে ঘরগুলোতে পানি উঠার আশঙ্কায় আছেন নিবন্ধিত উপকারভোগীরা। এছাড়াও ঘর নির্মাণে সব নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর। তারা বলছেন, ইট, কাঠ ও সিমেন্ট যা ব্যবহার হয়েছে ও হচ্ছে এখানে  নিম্নমানের। অথচ সরকার মুজিববর্ষের ঘরে ভালো মানের ইট-সিমেন্ট ব্যবহার করার শর্তে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা বাড়িপ্রতি বরাদ্দ দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ঘরগুলো উঁচু না করায় উপকারভোগীরা এটার শতভাগ সুবিধা পাবে না। তার অভিযোগ, এ বাড়ি নির্মাণে দরকারের চেয়ে বেশি পরিমাণে বালু ব্যবহার করা হচ্ছে, একে তো সিমেন্ট কম দেওয়া হয়েছে, তাছাড়া ভালো কোম্পানির সিমেন্টও ব্যবহার করা হয়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নদীর তীরে নিচু স্থানে মুজিববর্ষ উপলক্ষে এই বাড়িগুলো বানানো হয়েছে। ফলে পাহাড়ি ঢলে ঘরগুলো তলিয়ে যাওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য বৃথা যাবে। উপকারভোগী হয়ে উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে ঘরের বাসিন্দাদের।

ঘর প্রাপ্তির তালিকায় নাম থাকা এক নারী নাম না প্রকাশ করার শর্তে  বলেন,ঘরের মেঝে নিচু হয়েছে, এখানে পানি আসলে ঘরে থাকা যাবে না এটা আমি টিএনও (ইউএনও) স্যারকে জানালে তিনি বলছেন, ‘পানি আসলে রাস্তায় থাকবা পরে সরকার আবার তোমাদের ত্রাণ দেবে।’ আমরা গরিব মানুষ কী আর বলবো! বেশি বললে যদি ঘর না পাই তাই আর কিছু বলিনি।’’

অভিযোগ অস্বীকার করে, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, ‘ঢল আসলে উপজেলা সদরও পানিতে তলিয়ে থাকে। বাজেট নেই মেঝে উঁচু করার, তাই করিনি।’

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান জানান, প্রথমদিকে নিম্নমানের কাজের খবর পেয়ে শুরুতেই ইটও পরিবর্তন করা হয়েছে।   কোনও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেবো।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর