ঢাকা ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
কিশোরগঞ্জের কৃতী সন্তান ড. আশরাফুল মোসাদ্দেকের অনুবাদ গ্রন্থ ‘কবি ও কবিতায় এশিয়া মহাদেশ’ আলোচনায় জবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন অফিসে অবস্থান-জ্বালানি সাশ্রয়ে মন্ত্রণালয়ের ১১ নির্দেশনা স্বাস্থ্য খাত দুর্নীতিমুক্ত করতে কাজ করছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সরকারি ছুটিতেও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে হাসপাতাল পরিদর্শনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ থামাতে ৪ মুসলিম দেশের জরুরি বৈঠক শুরু মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হচ্ছেন মামুন ও মাসুদ ১১ জেলার ডিসি প্রত্যাহার করে নতুন ডিসি নিয়োগ ঢাকায় পৌঁছেছে স্পিকারের স্ত্রী দিলারা হাফিজের মরদেহ

নোটিশ বৈধ হয়নি, সংসদ কি আগের কালচারে ফিরবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ৪ বার

সংসদীয় বিধি লঙ্ঘন করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। প্রস্তাবের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে তা বিধিসম্মত নয়।

সংসদকে ‘আগের কালচারে’ ফিরিয়ে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনে আইন প্রণয়ন বা সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তড়িঘড়ি আলোচনা সুযোগ নেই।

রোববার (২৯ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমার পয়েন্ট অব অর্ডার হচ্ছে– প্রথমে মাননীয় স্পিকারকে অনুরোধ করেছিলাম সেদিন, যেদিন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এই একই বিষয়টা উত্থাপন করেছিলেন, যে উনাকে নোটিশ দিতে বলেন। এটার নোটিশের প্রয়োজন আছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই বিষয়ে আপনি আলোচনা করে ফয়সালা দিবেন। বিধান হচ্ছে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব। রুলস অব প্রসিডিউরের ৬২ বিধি অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হয়েছে, একটি কপি সৌভাগ্যক্রমে আমি এখানে পেয়েছি। টেবিলে মুলতবি প্রস্তাবের বিষয় লিখেছে ‘সাম্প্রতিক ও জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সুনির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য এই সংসদের কাজ এখন মুলতবি করা হোক’।

নোটিশের কারিগরি ত্রুটি তুলে ধরে তিনি বলেন, নোটিশ তো আপনি দিতে পারবেন জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। কিন্তু জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশ দিতে গেলে তো আপনাকে বিধি ৬৮-তে যেতে হবে। দিস ইজ মাই পয়েন্ট অব অর্ডার। এবং সেখানে আপনি সময় পাবেন আধা ঘণ্টা আলোচনার। এখন যদি আপনি সংশোধন করতে চান, সংশোধন করতে পারেন। মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতাকে সংশোধিত নোটিশ আবার দিতেও বলতে পারেন; আপনার রাইট আছে। ইউ আর দ্য লর্ড অব দি হাউস। আপনি এই পার্লামেন্টে সবকিছু সংশোধন করতে পারবেন। সেই হিসাবে যদি আপনি এখতিয়ার প্রয়োগ করেন, তাহলে উনি আবার নোটিশ প্রদান করতে পারেন অথবা আপনি সংশোধিত আকারে নিতে পারেন।

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি আপনার (স্পিকার) প্রটেকশন চাচ্ছি। আপনি বিরোধীদলীয় সদস্যদেরকে ফ্লোর দিবেন অসুবিধা নাই, কিন্তু লেট মি স্পিক। আমরা যেন আগের কালচারে ফেরত না যাই। আপনি যদি আমাকে সময় না দেন তাহলে আমি বসে যাব, এটাই বিধি। আমি ফর্মুলেট করছি মাননীয় স্পিকার। বিধিতে উনি যে নোটিশটা দিয়েছেন, আপনি দেখেন– আপনার সামনে তো কিতাব আছে, রুলস আছে, পার্লামেন্টের অবিসাররা আছেন। আপনি যদি ৬২ বিধিতে এই নোটিশটা গ্রহণ করেন, তাহলে আপনাকে সংশোধিত আকারে গ্রহণ করতে হবে অথবা আপনাকে বলতে হবে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা, আপনি ৬২ রুলসে আবার একটা নোটিশ কারেকশন করে দেন। এটা হচ্ছে আমার ফার্স্ট পয়েন্ট অব অর্ডার।

মুলতবি প্রস্তাবের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মাই সেকেন্ড পয়েন্ট অব অর্ডার– মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এই মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। যদি ধরি উনি রাইটলি ৬২ বলছেন, তাহলে উনি শুধু উনার প্রস্তাবটা উত্থাপন করতে পারবেন। এখানে আপনি জুলাই জাতীয় সনদ, সংবিধান সংস্কার আদেশ, বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫– এই পুরোটা পড়ার তো মাননীয় স্পিকার কোনো সুযোগ নেই। এটা আপনি যদি ডিবেটের জন্য দিন নির্ধারণ করেন, আগামীকাল বা পরশু করবেন, সেদিন আলোচনা হতে পারে।

আইনি বাধ্যবাধকতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার এনাদার পয়েন্ট অব অর্ডার হচ্ছে, বিধি ৬৩-তে আপনি দেখবেন যে, এমন কোনো প্রস্তাব নিয়ে আপনি আলোচনা আনতে পারবেন না যে প্রস্তাবে প্রতিকার কেবল আইন প্রণয়নের মাধ্যমে হতে পারে। এখানে এটার প্রতিকার তো সংবিধান সংশোধন এবং আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই হবে। ইট ইজ নট আ সিম্পল ডিবেট অন রিসেন্ট ইস্যুজ। সাধারণত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব হয়। কিন্তু এটা তো আইন প্রণয়নের সাথে জড়িত। বিধি ৬৩-তে বলা আছে যে বিষয়গুলো আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সমাধান হতে পারে, সে সমস্ত বিষয় মুলতবি প্রস্তাবের জন্য আসতে পারে না।

সবশেষে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এখানে আমার একটা ফেয়ার প্রপোজাল আছে। ইট ইজ মাই থার্ড পয়েন্ট অব অর্ডার। আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই। আমার বিরোধীদলীয় সদস্য কেউ কেউ সংস্কার করতে চান। পার্লামেন্টের ল্যাঙ্গুয়েজ হচ্ছে কনস্টিটিউশন হয় প্রণীত হবে, অথবা রহিত হবে, অথবা স্থগিত হবে অথবা সংশোধিত হবে। আমরা এখানে সভরিন (সার্বভৌম) পার্লামেন্টে এখতিয়ার নিয়ে এসেছি। সংবিধানও একটি আইনের মাধ্যমে সংশোধন হবে। সুতরাং সংবিধান সংশোধনের জন্য লেট আস ফর্ম এ কনস্টিটিউশন রিফর্ম কমিটি হিয়ার– ট্রেজারি বেঞ্চ এবং অপজিশন সবাইকে নিয়ে। আমরা জুলাই জাতীয় সনদকে গুরুত্ব দেব, যেটা সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সবাই স্বাক্ষর করেছেন। জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী পরবর্তী পার্লামেন্টে আমরা সংবিধান সংশোধন করব।

তিনি আরও বলেন, এখন আমার প্রস্তাব হচ্ছে মাননীয় স্পিকার, আমরা কি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে যেটা করতে হয় সেটা কি জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে এখানে ডিবেট করব নাকি করব না? আমরা কি পার্লামেন্টের একটা সংসদীয় কমিটি ফর্ম করব, যেখানে সংবিধান সংশোধনের জন্য সবাই প্রস্তাব দিবেন– বিরোধী দল, সরকারি দল, স্বতন্ত্র সদস্য সবাই মিলে? আমরা সমঝোতার ভিত্তিতে এমন একটি সংবিধান সংশোধন করতে চাই যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে পারে। আমরা বাংলাদেশের মানুষের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সকল প্রত্যাশাকে ধারণ করতে চাই। এমন একটা দলিল রচনা করি যাতে করে আমরা অনেকদিন এই দলিলটা নিয়ে কাজ করতে পারি। আপনি এখন ডিসাইড করতে পারেন মাননীয় স্পিকার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জের কৃতী সন্তান ড. আশরাফুল মোসাদ্দেকের অনুবাদ গ্রন্থ ‘কবি ও কবিতায় এশিয়া মহাদেশ’ আলোচনায়

নোটিশ বৈধ হয়নি, সংসদ কি আগের কালচারে ফিরবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১০:৫১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

সংসদীয় বিধি লঙ্ঘন করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। প্রস্তাবের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে তা বিধিসম্মত নয়।

সংসদকে ‘আগের কালচারে’ ফিরিয়ে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনে আইন প্রণয়ন বা সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তড়িঘড়ি আলোচনা সুযোগ নেই।

রোববার (২৯ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমার পয়েন্ট অব অর্ডার হচ্ছে– প্রথমে মাননীয় স্পিকারকে অনুরোধ করেছিলাম সেদিন, যেদিন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এই একই বিষয়টা উত্থাপন করেছিলেন, যে উনাকে নোটিশ দিতে বলেন। এটার নোটিশের প্রয়োজন আছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই বিষয়ে আপনি আলোচনা করে ফয়সালা দিবেন। বিধান হচ্ছে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব। রুলস অব প্রসিডিউরের ৬২ বিধি অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হয়েছে, একটি কপি সৌভাগ্যক্রমে আমি এখানে পেয়েছি। টেবিলে মুলতবি প্রস্তাবের বিষয় লিখেছে ‘সাম্প্রতিক ও জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সুনির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য এই সংসদের কাজ এখন মুলতবি করা হোক’।

নোটিশের কারিগরি ত্রুটি তুলে ধরে তিনি বলেন, নোটিশ তো আপনি দিতে পারবেন জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। কিন্তু জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশ দিতে গেলে তো আপনাকে বিধি ৬৮-তে যেতে হবে। দিস ইজ মাই পয়েন্ট অব অর্ডার। এবং সেখানে আপনি সময় পাবেন আধা ঘণ্টা আলোচনার। এখন যদি আপনি সংশোধন করতে চান, সংশোধন করতে পারেন। মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতাকে সংশোধিত নোটিশ আবার দিতেও বলতে পারেন; আপনার রাইট আছে। ইউ আর দ্য লর্ড অব দি হাউস। আপনি এই পার্লামেন্টে সবকিছু সংশোধন করতে পারবেন। সেই হিসাবে যদি আপনি এখতিয়ার প্রয়োগ করেন, তাহলে উনি আবার নোটিশ প্রদান করতে পারেন অথবা আপনি সংশোধিত আকারে নিতে পারেন।

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি আপনার (স্পিকার) প্রটেকশন চাচ্ছি। আপনি বিরোধীদলীয় সদস্যদেরকে ফ্লোর দিবেন অসুবিধা নাই, কিন্তু লেট মি স্পিক। আমরা যেন আগের কালচারে ফেরত না যাই। আপনি যদি আমাকে সময় না দেন তাহলে আমি বসে যাব, এটাই বিধি। আমি ফর্মুলেট করছি মাননীয় স্পিকার। বিধিতে উনি যে নোটিশটা দিয়েছেন, আপনি দেখেন– আপনার সামনে তো কিতাব আছে, রুলস আছে, পার্লামেন্টের অবিসাররা আছেন। আপনি যদি ৬২ বিধিতে এই নোটিশটা গ্রহণ করেন, তাহলে আপনাকে সংশোধিত আকারে গ্রহণ করতে হবে অথবা আপনাকে বলতে হবে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা, আপনি ৬২ রুলসে আবার একটা নোটিশ কারেকশন করে দেন। এটা হচ্ছে আমার ফার্স্ট পয়েন্ট অব অর্ডার।

মুলতবি প্রস্তাবের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মাই সেকেন্ড পয়েন্ট অব অর্ডার– মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এই মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। যদি ধরি উনি রাইটলি ৬২ বলছেন, তাহলে উনি শুধু উনার প্রস্তাবটা উত্থাপন করতে পারবেন। এখানে আপনি জুলাই জাতীয় সনদ, সংবিধান সংস্কার আদেশ, বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫– এই পুরোটা পড়ার তো মাননীয় স্পিকার কোনো সুযোগ নেই। এটা আপনি যদি ডিবেটের জন্য দিন নির্ধারণ করেন, আগামীকাল বা পরশু করবেন, সেদিন আলোচনা হতে পারে।

আইনি বাধ্যবাধকতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার এনাদার পয়েন্ট অব অর্ডার হচ্ছে, বিধি ৬৩-তে আপনি দেখবেন যে, এমন কোনো প্রস্তাব নিয়ে আপনি আলোচনা আনতে পারবেন না যে প্রস্তাবে প্রতিকার কেবল আইন প্রণয়নের মাধ্যমে হতে পারে। এখানে এটার প্রতিকার তো সংবিধান সংশোধন এবং আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই হবে। ইট ইজ নট আ সিম্পল ডিবেট অন রিসেন্ট ইস্যুজ। সাধারণত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব হয়। কিন্তু এটা তো আইন প্রণয়নের সাথে জড়িত। বিধি ৬৩-তে বলা আছে যে বিষয়গুলো আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সমাধান হতে পারে, সে সমস্ত বিষয় মুলতবি প্রস্তাবের জন্য আসতে পারে না।

সবশেষে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এখানে আমার একটা ফেয়ার প্রপোজাল আছে। ইট ইজ মাই থার্ড পয়েন্ট অব অর্ডার। আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই। আমার বিরোধীদলীয় সদস্য কেউ কেউ সংস্কার করতে চান। পার্লামেন্টের ল্যাঙ্গুয়েজ হচ্ছে কনস্টিটিউশন হয় প্রণীত হবে, অথবা রহিত হবে, অথবা স্থগিত হবে অথবা সংশোধিত হবে। আমরা এখানে সভরিন (সার্বভৌম) পার্লামেন্টে এখতিয়ার নিয়ে এসেছি। সংবিধানও একটি আইনের মাধ্যমে সংশোধন হবে। সুতরাং সংবিধান সংশোধনের জন্য লেট আস ফর্ম এ কনস্টিটিউশন রিফর্ম কমিটি হিয়ার– ট্রেজারি বেঞ্চ এবং অপজিশন সবাইকে নিয়ে। আমরা জুলাই জাতীয় সনদকে গুরুত্ব দেব, যেটা সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সবাই স্বাক্ষর করেছেন। জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী পরবর্তী পার্লামেন্টে আমরা সংবিধান সংশোধন করব।

তিনি আরও বলেন, এখন আমার প্রস্তাব হচ্ছে মাননীয় স্পিকার, আমরা কি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে যেটা করতে হয় সেটা কি জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে এখানে ডিবেট করব নাকি করব না? আমরা কি পার্লামেন্টের একটা সংসদীয় কমিটি ফর্ম করব, যেখানে সংবিধান সংশোধনের জন্য সবাই প্রস্তাব দিবেন– বিরোধী দল, সরকারি দল, স্বতন্ত্র সদস্য সবাই মিলে? আমরা সমঝোতার ভিত্তিতে এমন একটি সংবিধান সংশোধন করতে চাই যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে পারে। আমরা বাংলাদেশের মানুষের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সকল প্রত্যাশাকে ধারণ করতে চাই। এমন একটা দলিল রচনা করি যাতে করে আমরা অনেকদিন এই দলিলটা নিয়ে কাজ করতে পারি। আপনি এখন ডিসাইড করতে পারেন মাননীয় স্পিকার।