ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

জুলাই সনদ নিয়ে দলগুলো অনড়, ঐকমত্য হয়নি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪৩:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৬৪ বার

প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে ঐকমত্য কমিশনের সংলাপেও জুলাই সনদ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলো। এখনো দলগুলো নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। যুক্ত হচ্ছে নতুন শর্তও। বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই সনদ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতায় পৌঁছতেই হবে।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে একটি ‘মহোৎসবের নির্বাচন’।

গতকাল রবিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা হয়। সংলাপে জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

সনদ বাস্তবায়নে আগের মতোই অস্থায়ী সাংবিধানিক আদেশ অথবা গণভোটের কথা বলেছে দলটি। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আবারও গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। আর বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো সংবিধানসংক্রান্ত সংস্কার আগামী সংসদের ওপর দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবে অনড় রয়েছে। তবে বিএনপি এও বলছে, অতিরিক্ত বা বিশেষ সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন করা যায় কি না, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের মতামত নেওয়া যেতে পারে।
কমিশন আগামী বুধবার আবারও সংলাপে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া কমিশনের মেয়াদ আরো এক মাস বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে একটি ‘মহোৎসবের নির্বাচন’। নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জাতির সত্যিকারের নবজন্ম হবে। এত ত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যদি আমরা সেই নবজন্ম অর্জন করতে পারি।

এ জন্য জুলাই সনদের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতায় পৌঁছতে হবে।”

সংলাপের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সমঝোতায় আসতেই হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কাছে ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই একমাত্র সুযোগ এবং আমাদের এটা গ্রহণ করতেই হবে। এটা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো উপায় নেই। সমঝোতা বলেন, ঐক্য বলেন, আর যাই বলেন, যখন নির্বাচনে যাব তখন একমত হয়ে সবাই যাব। এর মধ্যে কোনো দ্বিমত আমরা রাখব না।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘স্বৈরাচার যাতে না আসতে পারে সে জন্যই সংস্কার প্রয়োজন। ভবিষ্যতে স্বৈরাচার আসার সব পথ আমরা এই সংস্কারের মাধ্যমে বন্ধ করে দিতে চাই। প্রথমে আমি নিশ্চিত ছিলাম না, এ প্রক্রিয়া থেকে কী পাওয়া যাবে। ভাবছিলাম কথা শুরুর পর সেটি কলাপস করে যাবে, কিন্তু দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পর আমি অবগত হয়েছি, সিদ্ধান্ত নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি চলছে।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের কাজ বিশ্বব্যাপী নজির হয়ে থাকবে। এটি যেন খুঁতওয়ালা নজির না হয়, এটা আমার আবেদন। এমন নজির সারাবিশ্ব দেখবে এবং অনুসরণ করার চেষ্টা করবে। আপনারা মূল কাজটি সম্পন্ন করেছেন। এখন সামান্য পথ বাকি। সব কিছু নির্ভর করছে শেষ অংশটুকুর ওপর।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘ভেতরে কোনো রকমের দুশ্চিন্তা রেখে আমাদের যেন নির্বাচনে ঢুকতে না হয়। উৎসব এখান থেকে শুরু হবে। নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই হবে। আমরা হাইওয়ে বানিয়ে ফেলেছি। এ পথেই যাব। আমাদের আবেদন, সব পথঘাট বন্ধ করতে হবে, যাতে কোনো জায়গা দিয়ে ঢুকতে (স্বৈরাচার) না পারে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাজটা করে ফেলতে পারলে আমাদের দেশ নিশ্চিন্ত হবে এবং পৃথিবীর অন্যান্য দেশ আমাদের থেকে শিখতে আসবে।’

রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছেন। বাকি রাস্তাটুকু যাতে সুন্দরভাবে সমাপ্ত করে পৃথিবীর জন্য নজির সৃষ্টি করতে পারেন; যে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে, সেটা শুধু আমাদের দেশের নয়, দুই দিন আগে নেপালেও একই ধরনের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন সমস্যার সম্মুখীন হবে আরো অনেক দেশ। তাই সমাধানের পথে সবার মনোযোগী হতে হবে।’

ছাত্র-জনতা গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আলাদিনের চেরাগের দৈত্য তৈরি করে দিয়েছে মন্তব্য করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমরা তার কাছে কী চাইব? আমরা কী তার কাছে এককাপ চা চাইব? না দুনিয়া পাল্টে ফেলতে চাইব? এটি আমাদের হাতে। কোনো বিষয় ছোট আকারে না রেখে, এই জাতিকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে তৈরি করে দিয়ে যাব। এ সুযোগটা এসেছে। সেখানে ছোটখাটো বিষয়ের মধ্যে আটকে গিয়ে আমরা যেন মূল বড় জিনিসটি হারিয়ে না ফেলি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ কাজ যেন নিখুঁত ও নির্দোষ হয়। এমনভাবে করব, যাতে তা হতে নতুন জাতি জন্মগ্রহণ করবে। আপনারা নতুন জাতির সূতিকাগার তৈরি করে দিলেন।’ সবাইকে একমত হয়ে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার আহবান জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য কমিশন) মনির হায়দারের সঞ্চালনায় সংলাপে উপস্থিত ছিলেন ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, সফর রাজ হোসেন ও ড. মো. আইয়ুব মিয়া।

বিএনপি : বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন কোনোভাবেই একটি আরেকটির ওপর সম্পর্কিত নয়। সংস্কার সংস্কারের মতো চলবে, এটি কনটিনিউ প্রসেস। বিচারেও টাইম লিমিট করা যায় না, তাতে অবিচার হবে। বিচার চলবে, যে সরকারই আসুক, কিন্তু নির্বাচনকে কন্ডিশনাল করা যাবে না। নির্ধারিত টাইমলাইনে নির্বাচন হতেই হবে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না হলে রিজিওনাল সিকিউরিটির জন্য থ্রেট হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাংবিধানিক ১৯টি বিষয়ের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এর মধ্যে কিছু কিছু বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ আমরা একমত হয়েছি। আমাদের বিবেচনায় ৭০ অনুচ্ছেদের চারটি বিষয়ে এমপিদের স্বাধীনতা না থাকলে ভালো হয়। সর্বনিম্ন দুটি বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে। নোট অব ডিসেন্টের কথা উল্লেখ করে সনদ তৈরি হচ্ছে এবং সেভাবে আমরা স্বাক্ষর করব। যারা জনগণের ম্যান্ডেট পাবে, তারা তাদের নোট অব ডিসেন্ট রক্ষা করে বাস্তবায়ন করবে। এটি কোনো জটিল বিষয় নয়।”

দুই-তিনটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়া বাকিগুলো খুবই সাধারণ বিষয় উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এগুলো বাস্তবায়ন খুব সহজ। কিন্তু ফোরাম কোনটা? সাংবিধানিক বিষয়গুলো পরবর্তী সংসদ ছাড়া অন্য কোনো ফোরাম করতে পারে কিনা? এ ব্যাপারে আইনি পরামর্শ দিতে পারেন সুপ্রিম কোর্ট। আমরা সেখানে যেতে পারি এবং সহায়তা নিতে পারি। এর বাইরে কিছু থাকলে জানান, আমরা একমত। আমরা সনদে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত আছি, তা আগেও বলেছি।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা কম্প্রোমাইজ করব। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কোনো পন্থা বের করতে পারলে তাতে একমত হব। প্রস্তুত করা চূড়ান্ত জুলাই সনদে ক্লারিক্যাল মিসটেক এবং কিছুটা বিভ্রান্তি আছে। এটা আমরা কারেকশন করে দেব, এটা মেজর কিছু নয়। তবে এটি জাতীয় দলিল, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, ঐতিহাসিক দলিল হবে, সে জন্য এটা নির্ভুল হওয়া বাঞ্ছনীয়। যেসব বিষয় আলোচিত হয়নি, সেগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত করা ঠিক হবে না। আমরা বলেছি, আইনি ভিত্তি নিয়ে আলোচনা হলে তাতে আমরা অংশ নেব। সেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তার আগে কমিশন বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েছে। সেখান থেকে অঙ্গীকারনামার যে ড্রাফট দেওয়া হয়েছে, তাতে আমরা লিখিত মতামত দিয়েছি। যেসব বিষয় পরে টিকবে না, সেগুলো এতে উত্থাপন করা ঠিক হবে না।’ তিনি বলেন, ‘কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না, তেমন কোনো দলিল হতে পারে না, সংবিধানের ওপর সনদকে স্থান দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এর বাইরেও অনেক পন্থা থাকতে পারে, যাতে আমরা এটার বৈধতা দিতে, আইনি ভিত্তি দিতে পারি। আপিল বিভাগের পরামর্শ নিতে পারি আমরা, এটি এক্সট্রা কনস্টিটিউশনাল অর্ডার বা স্পেশাল কনস্টিটিউশনাল অর্ডার করা যায় কি না। তাহলে ভবিষ্যতে আদালতে এটা চ্যালেঞ্জ করলেও বলতে পারবে আমরা মতামত নিয়েছিলাম। এখন সেই পরামর্শ আপনারা দিতে পারেন, নাও পারেন।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘স্পেশাল কনস্টিটিউশনাল অর্ডারে আপনি (প্রধান উপদেষ্টা) করলেন। আমরা কেউ কিছু বললাম না। ঐকমত্য কমিশন থেকে আমরা আপনাকে দায়িত্ব দিলাম, সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে আপনি সিদ্ধান্ত দেন। তারপর আপনি করলেন। কিন্তু যেকোনো একজন নাগরিক যদি এটা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে কোথাও যায়, সেটা আপনার আন্তর্জাতিক খ্যাতি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। আমরা অনেক আলোচনা করেছি, সেখান থেকে আপনি কোনো মতামত নিতে পারেন। সেই স্বাধীনতা আপনার আছে।’

জামায়াতে ইসলামী : জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন হলেই তা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। দলের পক্ষ থেকে সনদ বাস্তবায়নের দুটি উপায়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি হলো প্রভিশনাল কনস্টিটিউশনাল অর্ডার। অতীতে এটার নজির আছে। আরেকটি হলো গণভোট। এটার ইতিহাসও দেশে আছে। দলগুলো একমত হতে না পারলে গণভোটের মাধ্যমে মানুষ রায় দেবে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে। নির্বাচন নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের দুটি নির্বাচন কিছুটা আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে নির্বাচনের পরিবেশ এবং ফলাফল ঘোষণা নিয়ে। নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে যতটুকু আমরা লক্ষ করেছি, এটাকে আমরা নেতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখতে চাই। জাতীয় নির্বাচনে এ রকম হবে কি না, সেই জায়গা থেকে আমাদের উদ্বেগের কথা আমরা জানাচ্ছি। যেন আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ একটি প্রশাসনব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। তাহলেই আমাদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হবে। এ জন্য আমরা বলতে চাই, আজকে যে সংস্কারের মধ্য দিয়ে জাতীয় সনদ হতে যাচ্ছে, এটির একটি সমাপ্তি সুন্দরভাবে হোক।’

এনসিপি : কমিশনের মেয়াদ আরো বাড়ানোর আহবান জানিয়ে এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা মনে করি, একটি গণপরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সংবিধান ও নতুনভাবে লিখিত ধারা-উপধারা ও অনুচ্ছেদের মধ্য দিয়ে যে সংশোধনী ও সংস্কার প্রস্তাবে একমত হয়েছি, সেগুলো টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।’

ইসলামী আন্দোলন : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ ম্রিয়মাণ হতে চলছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এটা হতে দিতে পারে না। জুলাইয়ে হাসিনার বিরুদ্ধে যে সাহসিকতা ও ঝুঁকি নিয়ে নেমেছিলাম, সেই প্রতিজ্ঞায় আবারও মাঠে অবস্থান নেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আমাদের দাবি সুস্পষ্ট। আমরা জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চাই, এর আইনি ভিত্তি চাই। দ্রুততার সঙ্গে ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত করতে চাই। ফ্যাসিবাদের দোসরদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন বন্ধ করতে চাই। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চাই। আমাদের অবস্থান কোনো দলের বিরুদ্ধে না। জুলাই অভ্যুত্থানের রক্ত ও জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের এই অবস্থান।’

বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিশনের সভা : জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় ও পদ্ধতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আবারও সভা করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। গতকাল সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন মোহাম্মদ ইকরামুল হক, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ড. শরিফ ভূইয়া, ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন ও ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।

কমিশন সূত্র জানায়, সভায় সনদ বাস্তবায়ন সম্পর্কিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচিত বিষয়গুলো সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের অবহিত করা হয়। পাশাপাশি সনদ বাস্তবায়নের উপায় ও পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দল এবং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পূর্বে প্রাপ্ত সুপারিশমালাও আলোচনায় উঠে আসে। সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, জুলাই সনদ প্রণয়নে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু করে। ছয় মাস মেয়াদ শেষে কমিশনের মেয়াদ আরো এক মাস বাড়ানো হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের অধিকার আদায়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির

জুলাই সনদ নিয়ে দলগুলো অনড়, ঐকমত্য হয়নি

আপডেট টাইম : ১০:৪৩:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে ঐকমত্য কমিশনের সংলাপেও জুলাই সনদ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলো। এখনো দলগুলো নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। যুক্ত হচ্ছে নতুন শর্তও। বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই সনদ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতায় পৌঁছতেই হবে।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে একটি ‘মহোৎসবের নির্বাচন’।

গতকাল রবিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা হয়। সংলাপে জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

সনদ বাস্তবায়নে আগের মতোই অস্থায়ী সাংবিধানিক আদেশ অথবা গণভোটের কথা বলেছে দলটি। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আবারও গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। আর বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো সংবিধানসংক্রান্ত সংস্কার আগামী সংসদের ওপর দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবে অনড় রয়েছে। তবে বিএনপি এও বলছে, অতিরিক্ত বা বিশেষ সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন করা যায় কি না, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের মতামত নেওয়া যেতে পারে।
কমিশন আগামী বুধবার আবারও সংলাপে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া কমিশনের মেয়াদ আরো এক মাস বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে একটি ‘মহোৎসবের নির্বাচন’। নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জাতির সত্যিকারের নবজন্ম হবে। এত ত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যদি আমরা সেই নবজন্ম অর্জন করতে পারি।

এ জন্য জুলাই সনদের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতায় পৌঁছতে হবে।”

সংলাপের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সমঝোতায় আসতেই হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কাছে ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই একমাত্র সুযোগ এবং আমাদের এটা গ্রহণ করতেই হবে। এটা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো উপায় নেই। সমঝোতা বলেন, ঐক্য বলেন, আর যাই বলেন, যখন নির্বাচনে যাব তখন একমত হয়ে সবাই যাব। এর মধ্যে কোনো দ্বিমত আমরা রাখব না।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘স্বৈরাচার যাতে না আসতে পারে সে জন্যই সংস্কার প্রয়োজন। ভবিষ্যতে স্বৈরাচার আসার সব পথ আমরা এই সংস্কারের মাধ্যমে বন্ধ করে দিতে চাই। প্রথমে আমি নিশ্চিত ছিলাম না, এ প্রক্রিয়া থেকে কী পাওয়া যাবে। ভাবছিলাম কথা শুরুর পর সেটি কলাপস করে যাবে, কিন্তু দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পর আমি অবগত হয়েছি, সিদ্ধান্ত নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি চলছে।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের কাজ বিশ্বব্যাপী নজির হয়ে থাকবে। এটি যেন খুঁতওয়ালা নজির না হয়, এটা আমার আবেদন। এমন নজির সারাবিশ্ব দেখবে এবং অনুসরণ করার চেষ্টা করবে। আপনারা মূল কাজটি সম্পন্ন করেছেন। এখন সামান্য পথ বাকি। সব কিছু নির্ভর করছে শেষ অংশটুকুর ওপর।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘ভেতরে কোনো রকমের দুশ্চিন্তা রেখে আমাদের যেন নির্বাচনে ঢুকতে না হয়। উৎসব এখান থেকে শুরু হবে। নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই হবে। আমরা হাইওয়ে বানিয়ে ফেলেছি। এ পথেই যাব। আমাদের আবেদন, সব পথঘাট বন্ধ করতে হবে, যাতে কোনো জায়গা দিয়ে ঢুকতে (স্বৈরাচার) না পারে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাজটা করে ফেলতে পারলে আমাদের দেশ নিশ্চিন্ত হবে এবং পৃথিবীর অন্যান্য দেশ আমাদের থেকে শিখতে আসবে।’

রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছেন। বাকি রাস্তাটুকু যাতে সুন্দরভাবে সমাপ্ত করে পৃথিবীর জন্য নজির সৃষ্টি করতে পারেন; যে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে, সেটা শুধু আমাদের দেশের নয়, দুই দিন আগে নেপালেও একই ধরনের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন সমস্যার সম্মুখীন হবে আরো অনেক দেশ। তাই সমাধানের পথে সবার মনোযোগী হতে হবে।’

ছাত্র-জনতা গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আলাদিনের চেরাগের দৈত্য তৈরি করে দিয়েছে মন্তব্য করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমরা তার কাছে কী চাইব? আমরা কী তার কাছে এককাপ চা চাইব? না দুনিয়া পাল্টে ফেলতে চাইব? এটি আমাদের হাতে। কোনো বিষয় ছোট আকারে না রেখে, এই জাতিকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে তৈরি করে দিয়ে যাব। এ সুযোগটা এসেছে। সেখানে ছোটখাটো বিষয়ের মধ্যে আটকে গিয়ে আমরা যেন মূল বড় জিনিসটি হারিয়ে না ফেলি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ কাজ যেন নিখুঁত ও নির্দোষ হয়। এমনভাবে করব, যাতে তা হতে নতুন জাতি জন্মগ্রহণ করবে। আপনারা নতুন জাতির সূতিকাগার তৈরি করে দিলেন।’ সবাইকে একমত হয়ে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার আহবান জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য কমিশন) মনির হায়দারের সঞ্চালনায় সংলাপে উপস্থিত ছিলেন ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, সফর রাজ হোসেন ও ড. মো. আইয়ুব মিয়া।

বিএনপি : বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন কোনোভাবেই একটি আরেকটির ওপর সম্পর্কিত নয়। সংস্কার সংস্কারের মতো চলবে, এটি কনটিনিউ প্রসেস। বিচারেও টাইম লিমিট করা যায় না, তাতে অবিচার হবে। বিচার চলবে, যে সরকারই আসুক, কিন্তু নির্বাচনকে কন্ডিশনাল করা যাবে না। নির্ধারিত টাইমলাইনে নির্বাচন হতেই হবে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না হলে রিজিওনাল সিকিউরিটির জন্য থ্রেট হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাংবিধানিক ১৯টি বিষয়ের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এর মধ্যে কিছু কিছু বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ আমরা একমত হয়েছি। আমাদের বিবেচনায় ৭০ অনুচ্ছেদের চারটি বিষয়ে এমপিদের স্বাধীনতা না থাকলে ভালো হয়। সর্বনিম্ন দুটি বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে। নোট অব ডিসেন্টের কথা উল্লেখ করে সনদ তৈরি হচ্ছে এবং সেভাবে আমরা স্বাক্ষর করব। যারা জনগণের ম্যান্ডেট পাবে, তারা তাদের নোট অব ডিসেন্ট রক্ষা করে বাস্তবায়ন করবে। এটি কোনো জটিল বিষয় নয়।”

দুই-তিনটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়া বাকিগুলো খুবই সাধারণ বিষয় উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এগুলো বাস্তবায়ন খুব সহজ। কিন্তু ফোরাম কোনটা? সাংবিধানিক বিষয়গুলো পরবর্তী সংসদ ছাড়া অন্য কোনো ফোরাম করতে পারে কিনা? এ ব্যাপারে আইনি পরামর্শ দিতে পারেন সুপ্রিম কোর্ট। আমরা সেখানে যেতে পারি এবং সহায়তা নিতে পারি। এর বাইরে কিছু থাকলে জানান, আমরা একমত। আমরা সনদে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত আছি, তা আগেও বলেছি।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা কম্প্রোমাইজ করব। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কোনো পন্থা বের করতে পারলে তাতে একমত হব। প্রস্তুত করা চূড়ান্ত জুলাই সনদে ক্লারিক্যাল মিসটেক এবং কিছুটা বিভ্রান্তি আছে। এটা আমরা কারেকশন করে দেব, এটা মেজর কিছু নয়। তবে এটি জাতীয় দলিল, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, ঐতিহাসিক দলিল হবে, সে জন্য এটা নির্ভুল হওয়া বাঞ্ছনীয়। যেসব বিষয় আলোচিত হয়নি, সেগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত করা ঠিক হবে না। আমরা বলেছি, আইনি ভিত্তি নিয়ে আলোচনা হলে তাতে আমরা অংশ নেব। সেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তার আগে কমিশন বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েছে। সেখান থেকে অঙ্গীকারনামার যে ড্রাফট দেওয়া হয়েছে, তাতে আমরা লিখিত মতামত দিয়েছি। যেসব বিষয় পরে টিকবে না, সেগুলো এতে উত্থাপন করা ঠিক হবে না।’ তিনি বলেন, ‘কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না, তেমন কোনো দলিল হতে পারে না, সংবিধানের ওপর সনদকে স্থান দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এর বাইরেও অনেক পন্থা থাকতে পারে, যাতে আমরা এটার বৈধতা দিতে, আইনি ভিত্তি দিতে পারি। আপিল বিভাগের পরামর্শ নিতে পারি আমরা, এটি এক্সট্রা কনস্টিটিউশনাল অর্ডার বা স্পেশাল কনস্টিটিউশনাল অর্ডার করা যায় কি না। তাহলে ভবিষ্যতে আদালতে এটা চ্যালেঞ্জ করলেও বলতে পারবে আমরা মতামত নিয়েছিলাম। এখন সেই পরামর্শ আপনারা দিতে পারেন, নাও পারেন।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘স্পেশাল কনস্টিটিউশনাল অর্ডারে আপনি (প্রধান উপদেষ্টা) করলেন। আমরা কেউ কিছু বললাম না। ঐকমত্য কমিশন থেকে আমরা আপনাকে দায়িত্ব দিলাম, সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে আপনি সিদ্ধান্ত দেন। তারপর আপনি করলেন। কিন্তু যেকোনো একজন নাগরিক যদি এটা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে কোথাও যায়, সেটা আপনার আন্তর্জাতিক খ্যাতি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। আমরা অনেক আলোচনা করেছি, সেখান থেকে আপনি কোনো মতামত নিতে পারেন। সেই স্বাধীনতা আপনার আছে।’

জামায়াতে ইসলামী : জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন হলেই তা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। দলের পক্ষ থেকে সনদ বাস্তবায়নের দুটি উপায়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি হলো প্রভিশনাল কনস্টিটিউশনাল অর্ডার। অতীতে এটার নজির আছে। আরেকটি হলো গণভোট। এটার ইতিহাসও দেশে আছে। দলগুলো একমত হতে না পারলে গণভোটের মাধ্যমে মানুষ রায় দেবে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে। নির্বাচন নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের দুটি নির্বাচন কিছুটা আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে নির্বাচনের পরিবেশ এবং ফলাফল ঘোষণা নিয়ে। নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে যতটুকু আমরা লক্ষ করেছি, এটাকে আমরা নেতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখতে চাই। জাতীয় নির্বাচনে এ রকম হবে কি না, সেই জায়গা থেকে আমাদের উদ্বেগের কথা আমরা জানাচ্ছি। যেন আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ একটি প্রশাসনব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। তাহলেই আমাদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হবে। এ জন্য আমরা বলতে চাই, আজকে যে সংস্কারের মধ্য দিয়ে জাতীয় সনদ হতে যাচ্ছে, এটির একটি সমাপ্তি সুন্দরভাবে হোক।’

এনসিপি : কমিশনের মেয়াদ আরো বাড়ানোর আহবান জানিয়ে এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা মনে করি, একটি গণপরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সংবিধান ও নতুনভাবে লিখিত ধারা-উপধারা ও অনুচ্ছেদের মধ্য দিয়ে যে সংশোধনী ও সংস্কার প্রস্তাবে একমত হয়েছি, সেগুলো টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।’

ইসলামী আন্দোলন : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ ম্রিয়মাণ হতে চলছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এটা হতে দিতে পারে না। জুলাইয়ে হাসিনার বিরুদ্ধে যে সাহসিকতা ও ঝুঁকি নিয়ে নেমেছিলাম, সেই প্রতিজ্ঞায় আবারও মাঠে অবস্থান নেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আমাদের দাবি সুস্পষ্ট। আমরা জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চাই, এর আইনি ভিত্তি চাই। দ্রুততার সঙ্গে ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত করতে চাই। ফ্যাসিবাদের দোসরদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন বন্ধ করতে চাই। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চাই। আমাদের অবস্থান কোনো দলের বিরুদ্ধে না। জুলাই অভ্যুত্থানের রক্ত ও জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের এই অবস্থান।’

বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিশনের সভা : জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় ও পদ্ধতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আবারও সভা করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। গতকাল সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন মোহাম্মদ ইকরামুল হক, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ড. শরিফ ভূইয়া, ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন ও ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।

কমিশন সূত্র জানায়, সভায় সনদ বাস্তবায়ন সম্পর্কিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচিত বিষয়গুলো সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের অবহিত করা হয়। পাশাপাশি সনদ বাস্তবায়নের উপায় ও পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দল এবং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পূর্বে প্রাপ্ত সুপারিশমালাও আলোচনায় উঠে আসে। সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, জুলাই সনদ প্রণয়নে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু করে। ছয় মাস মেয়াদ শেষে কমিশনের মেয়াদ আরো এক মাস বাড়ানো হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।