,

jail-20220103095009

টাকায় মেলে জামাই আদর

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এ এক অন্য দুনিয়া! এখানে কচকচে টাকার নোট থাকলেই সব চকচকে দেখা যায়। চোখে না দেখলে বগুড়া জেলা কারাগারের ভেতরকার রাজকীয় কাজকারবার যে কারো কাছেই অবিশ্বাস্য ঠেকবে।

কথিত আছে, টাকা ফেললে জেলখানার ভেতরে ‘বাঘের চোখও’ মেলে! খাওয়া যায় মাদক থেকে শুরু করে পোলাও মাংস। মোবাইল ফোনে স্ত্রী থেকে শুরু করে প্রেয়সী, কারো সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতে নেই মানা! জুতো সেলাই থেকে চণ্ডিপাঠ, সব কিছু চলে টাকার ইশারায়।

বাইরে থেকে টের পাওয়া না গেলেও কারাগারের ভেতরে যেন গড়ে উঠেছে অবৈধ এক ‘ব্যবসা কেন্দ্র’। সেখানে রয়েছে হরেক সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটে কয়েদীরা যেমন আছেন, তেমনি বাইরে থেকে অনেকে নাড়েন কলকাঠি। তবে এসব অপকীর্তির আলোছায়া হয়ে থাকেন কারাগারের কিছু অসাধু কর্তা।

বগুড়া জেলা কারাগার থেকে সদ্য ছাড়া পাওয়া বেশ কয়েকজন বন্দির বয়ান থেকে মিলেছে শরীরে কাঁটা দেওয়া এসব তথ্য।

আমির হোসেন (ছদ্মনাম) করোনার মধ্যে বগুড়া কারাগারে বন্দি ছিলেন পাঁচ মাস। কারাগারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, করোনার কারণে এখন বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের দেখা করা কাগজে কলমে নিষিদ্ধ। তবে কথিত ‘ভিআইপি’ ব্যবস্থাপনায় সবই সম্ভব। আর স্বাভাবিক সময়ে টাকা দিলেই ‘ভিআইপি ব্যবস্থাপনা’ ছাড়াই স্বজনরা বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। এ জন্য আছে আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা। এটা নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য। কখনো কখনো জেলার কিংবা ডেপুটি জেলারদের কক্ষই বন্দি ‘সাক্ষাত কক্ষ’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

আমির হোসেন বলেন, ‘করোনার সময় দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ থাকলেও দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা দিলে ভেতরে বসে দেখা করার ব্যবস্থা করে দেওয়া হতো। করোনার কারণে সবাই দেখা করার সুযোগ না পেলেও ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কারাগার থেকে বাইরের যে কারোর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথার সুযোগ ছিল অবারিত। এ জন্য প্রতি তিন মিনিটে ১০০ টাকা দিতে হতো।

এখানেই শেষ নয়, বগুড়া কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন ব্লক অবৈধভাবে লিজ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। মাসিক ২০ হাজার থেকে লাখ টাকার বিনিময়ে এই লিজ নেন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের একটি সিন্ডিকেট। নতুন যারা কারাগারে যান, তারা কোথায় থাকবেন, কতটা ভালো থাকবেন, কী খাবার খাবেন তা নির্ভর করে ওই সিন্ডিকেটের ওপর। টাকার বিনিময়ে আগত আসামিদের তারা এই সুবিধা দেন।

আসামিরা প্রথমে কারাগারে ঢুকলে কোয়ারেন্টাইন শেষে তাদের অহেতুক আলাদা করে দেওয়া হয়। থাকার জায়গা, খাবার কোনো কিছুই ঠিকমতো পান না তারা। এরপর সিন্ডিকেটকে চাহিদা মতো টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করলে মিলে যায় থাকার জায়গা ও খাবার। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে আসামিরা চাহিদামতো টাকা নিয়ে দেয় সিন্ডিকেটকে।

কারাগারে সাধারণভাবে বুথে গিয়ে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগও আছে। এর বাইরে সেলে বসেই মোবাইল ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া হয়। এর জন্যও দিতে হয় বাড়তি টাকা। কারারক্ষীদের সিন্ডিকেট এই মোবাইল ফোন ব্যবসায় জড়িত। তারাই রাতে ফোন সরবরাহ করে আবার সকালে নিয়ে যায়। রাতে ডিউটিতে যেসব কারারক্ষী থাকে তারা আবার কমিশনের টাকা হাতে পেয়ে এগুলো দেখেও দেখেন না।

কৌশলে কারাগারে মাদক ঢোকানো হয়, কারাগারের ভেতরেই টাকার বিনিময়ে ইয়াবা, হোরাইন, গাঁজাসহ আরো অনেক মাদক মেলে। কারাগারের ভেতরেই একটি সিন্ডিকেট এই মাদক কারবারের হোতা।

কারাবন্দিদের অভিযোগ, সুচিকিৎসার জন্য দোতলায় একটি কারা হাসপাতাল আছে। হাসপাতালের ফার্মাসিস্টের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ।
হাসপাতালের ওষুধ বিক্রি ও বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ নিত্যদিনের। কারা হাসপাতালে অসুস্থ কারাবন্দিদের চিকিৎসা দেওয়া হয় না। ওষুধ চাইলে পরে দেওয়া হবে, নতুবা নেই বলে খালি হাতে ফেরত পাঠানো হয়। অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল বন্দিরা মাসিক তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে কারা চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে দিয়ে হাসপাতালে আবাসিক হোটেলের মতো বাস করছেন। খাবারও খাচ্ছেন বেশ ভালো।

হাসপাতালে থাকার সুযোগ পাওয়া বিত্তবান বন্দির স্বজনরা কখনো বিকাশের মাধ্যমে আবার কখনো নগদে সেই টাকা পরিশোধ করেন। অন্যদিকে প্রকৃতপক্ষে যারা অসুস্থ তাদের হাসপাতালের মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। এ কারণে কারা হাসপাতালে বিনা চিকিৎসা ও অবহেলায় প্রায়ই বন্দির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, কারা হাসপাতালে স্থায়ী কোনো চিকিৎসক নেই। সরকারি অন্য হাসপাতালে কর্মরত একজন চিকিৎসক মাঝে মধ্যে কারা হাসপাতালে আসেন। এছাড়া দুজন ফার্মাসিস্ট রয়েছেন, তারাই বন্দিদের চিকিৎসা দেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য কারা হাসপাতালে কোনো ব্যবস্থা নেই। নামে মাত্র একটি ইসিজি মেশিন থাকলেও তা দিয়ে কোনো কাজ হয় না। কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই বন্দিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সম্প্রতি কারাগার থেকে ফেরা বন্দি বগুড়ার শেরপুর উপজেলা শহরের বাসিন্দা ও সাবেক বিজিবি সদস্য মেরাজুল ইসলাম বলেন, আমি জেলখানায় থাকাকালে কিডনিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হই। অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হলে কারা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। টানা ৩ দিন কারা হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও কোনো চিকিৎসক পাইনি। ফার্মাসিস্ট শুধু ব্যথানাশক ইনজেকশন ও ট্যাবলেট দিতে থাকে।

মেরাজুল বলেন, কষ্ট সহ্য করতে না পেরে জেল সুপার মনির আহমেদকে যখন অনুরোধ করলাম, স্যার আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরের হাসপাতালে পাঠান। আমার কথা শুনে জেল সুপার বলেন, ‘মৃত্যুর আগে অসুস্থ কোনো বন্দি জেলখানর বাইরে যাবে না। কারণ এতে করে জেলের ভেতরের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।’ পরে এই বিষয় নিয়ে ভেতরের বন্দিদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলে আমাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসা পত্র না নিয়েই জেলখানায় আবারো ফেরত আনা হয়। এরপর মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে জেলখানায় থাকতে হয়েছে।

জেলখানার ভেতরে কেস টেবিলের পাশে তৈরি করা হয়েছে কারা ক্যান্টিন। আর এই ক্যান্টিনের রান্নাঘর করা হয়েছে নারীবন্দি ওয়ার্ডের পাশে একটি স্থানকে। চার-পাঁচজন কয়েদি সাপ্তাহিক চুক্তিতে টাকা দিয়ে রান্না করেন। রান্না করা মাছ, মাংস, ডিম ও সবজি বিক্রি করা হয়। কারা ক্যান্টিনে ন্যায্য দামে পণ্য বিক্রির নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ সময় ৩০ শতাংশ ভ্যাট ছাড়াও চড়া দাম নেওয়া হয়। দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দামে পণ্য কিনতে বন্দিদের বাধ্য করা হয়। এ কারণে ভালো খাবার জোটে ভিআইপি বন্দিদের ভাগ্যে। টাকা দিতে না পারলে অস্বচ্ছল বন্দিদের কপালে ভালো খাবার জোটে না।

৭২০ বন্দির ধারণক্ষমতার কারাগারে বর্তমানে সব সময়ই দুই হাজারের বেশি বন্দি থাকেন। বন্দিদের জন্য দৈনিক খাদ্য তালিকা অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হয় না। ওজনে কম খাবার সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে।

সরকারিভাবে সাধারণ বন্দিদের ভাত, পাতলা ডাল ও সবজি এবং মাঝে মধ্যে ছোট আকারের পাঙ্গাশ মাছ ছাড়া আর কিছুই দেওয়া হয় না। সরবরাহ করা এসব খাবার এতটাই মানহীন যে, কেউ খেতে পারে না। এ কারণে তারা ক্যান্টিন থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে খাবার কিনতে বাধ্য হন। তবে এই ক্যান্টিনটিও এখন ভিআইপিদের দখলে চলে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বন্দি জানান, তিনি খাবার কিনে খেতে পারেন না। এ কারণে সরবরাহ করা সরকারি খাবারই তার ভরসা। বগুড়া কারাগারে সকাল ৮টায় একটি রুটি ও ভাজি, দুপুর ১২টায় ভাতের সঙ্গে সবজি/ডাল আর বিকেল ৪টায় ভাতের সঙ্গে সবজি অথবা পাঙ্গাশ মাছ দেওয়া হয়। ভাত থেকে বের হয় দুর্গন্ধ। সরবরাহ করা ডালকে পানি বলাই ভালো। যাদের কোনো উপাই নেই তারাই এসব বাধ্য হয়ে খান।

জানা যায়, বগুড়া জেলা কারাগারে বন্দিদের প্রাপ্য সরকারি বরাদ্দ করা চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য খাদ্য দ্রব্যের সিংহভাগই লুটপাট করা হয়। নির্দেশনা অনুসারে প্রতিদিন সকালে একজন কয়েদি নাস্তার আটা পাবে ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম, হাজতি পাবে ৮৭ দশমিক ৪৮ গ্রাম, দুপুরে একজন কয়েদি চাল পাবে ২৯১ দশমিক ৬০ গ্রাম, হাজতি পাবে ২৪৭ দশমিক ৮৬ গ্রাম, বিকেলের চালের বরাদ্দও একই। একই ভাবে প্রতিদিন একজন কয়েদি ও হাজতি তরকারি পাবে ২৯১ দশমিক ৬০ গ্রাম, ডাল ১৪৫ দশমিক ৮০ গ্রাম, লবণ ২৯ দশমিক ১৬ গ্রাম, পেঁয়াজ ৪ দশমিক ১০ গ্রাম, শুকনা মরিচ ১ দশমিক ৮২ গ্রাম, হলুদ ০ দশমিক ৯১ গ্রাম, ধনিয়া ০ দশমিক ৪৫ গ্রাম, ভোজ্য তেল ১৮ দশমিক ২২ গ্রাম, মাছ ৩৬ দশমিক ৪৫ গ্রাম ও গরুর মাংস ৩৮ দশমিক ৭৮ গ্রাম। কিন্তু বাস্তবে এই পরিমাণ খাবার কখনোই দেওয়া হয় না। যার কারণে বন্দিরা প্রতিনিয়ত তাদের প্রাপ্য খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জেল ফেরত বন্দিদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, এখন জেল সুপার মনির আহমেদের ইচ্ছামতো রান্না করতে হয় চৌকায় দায়িত্বরত কারারক্ষী ও বন্দিদের। কেউ প্রতিবাদ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মাছের মাথা দিয়ে সবজি রান্না, ব্রয়লার মুরগি দিয়ে ডালের মুড়িঘণ্ট, দুপুরের সবজির বদলে আলু ও বেগুন ভর্তা করে খাওয়ানো হয়। আর এসব তরকারি বিতরণের সময় জেল সুপার নিজে উপস্থিত থাকেন। যেন কোনো বন্দি এসবের প্রতিবাদ করতে না পারে। কেউ প্রতিবাদ করলে তার ওপর নেমে আসে নির্যাতন।

বগুড়া কারাগারে প্রতিনিয়ত ১৮০০ থেকে দুই হাজার বন্দি থাকে। অভিযোগ রয়েছে, বন্দির হিসাব অনুযায়ী খাদ্য গুদাম থেকে অর্ধেকেরও কম খাদ্য দ্রব্য দিয়ে বন্দিদের খাওয়ানো হয়। এছাড়াও ক্যান্টিন পরিচালনা করে মাসে আনুমানিক লাখ লাখ টাকা আয় করা হয়।

বন্দিদের টাকায় পরিচালিত ক্যান্টিনে দুই একটি পণ্যের এমআরপি রেটের সঙ্গে ৩০ শতাংশ যোগ দেওয়া ছাড়া অন্য সব পণ্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত দাম নেওয়া হয়। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে কোনো বন্দির মুখ খোলার সুযোগ নেই। কারণ উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের যে কেউ কারাগার পরিদর্শনে আসার আগেই বন্দিদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। আর পরিদর্শক এলে সব ওয়ার্ডে বন্দিদের আটক করে রাখা হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত পরিদর্শক কারাগারের ভেতরে অবস্থান করে, ততক্ষণ পর্যন্ত কারারক্ষীদের নিয়ে জেল সুপার পরিদর্শককে ঘিরে রাখেন।

অভিযোগ করা ব্যক্তিরা বলেন, কারাগারের নির্যাতিত বন্দিদের আলাদা ভাবে ডেকে কথা বললে সেখানে কর্তা ব্যক্তিদের অনিয়ম-দুর্নীতির পুরো ছবিটাই বেরিয়ে আসবে।

অপরাধীদের সংশোধনের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু তারা সংশোধনের বদলে মাদকের ছোবলে নীল হয়ে যায়। কারণ কারাগারে অবাধে ঢুকছে মাদকদ্রব্য। কিছু কারারক্ষী ও কর্মকর্তার সহযোগিতায় প্রধান ফটক দিয়েই কারাগারে ঢোকে মাদক। কারাগারের সিসি ক্যামেরাগুলো অধিকাংশই থাকে বিকল।

অভিযোগ রয়েছে, টাকার বদলে গোল্ডলিফ কিংবা ব্যানসন সিগারেটের প্যাকেট দিলেই ভেতরে মেলে গাঁজা, ইয়াবা, হোরোইনসহ হরেক ধাচের মাদক। নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার বিপরীতে সিগারেটের প্যাকেট দিলে সুবেদার, কারারক্ষীরা বাইরে থেকে মাদক এনে দেন। তবে বাইরের চাইতে কারাগারে মাদকের দাম অনেক বেশি। এখানে ইয়াবা প্রতি পিস ১০০০ টাকা, গাঁজা ছোট পুরিয়া ৪০০ টাকা, হেরোইন ছোট এক পুরিয়া এক হাজার টাকায় পাওয়া যায়।

একজন বন্দি জানান, সম্প্রতি গাঁজা সেবনের ও মোবাইল ফোন ব্যবহারের অপরাধে দুজন ভিআইপি বন্দি ফেঁসে যান। পরে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ম্যানেজ করায় তাদের আর কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, কারারক্ষিদের যারা গেটের দায়িত্বে রয়েছেন তারা আদালতে আসামি নিয়ে ফেরার পথে আত্মীয় স্বজনের দেওয়া মালপত্র নিয়ে নেন। পরে এগুলোই আবার চড়া দামে বিক্রি করেন। জেলগেটের বাইরে একটি নির্দিষ্ট দোকান থেকে মালামাল কিনে ভেতরে পাঠানো যায়। কিন্তু এই দোকানের প্রতিটি মালামাল নিম্নমানের, ওজনে কম। তারপরও এভাবেই প্রতারণা করা হয় নিয়মিত।

এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া জেলা কারাগারের সুপার মনির আহমেদ বলেন, আমি চেষ্টা করছি করাগারের সব অপকর্ম দূর করে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। আর অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, আগের চাইতে বগুড়া কারাগারের পরিবেশ এখন অনেক ভালো আছে। আর কারাগারের অভ্যন্তরে কোনো ভিআইপি বন্দিকে বিশেষ সুযোগ দিয়ে দেখা করার অনুমতি দেয়া হয় না।

তবে কারা অভ্যন্তরে বিভিন্ন অনিয়মের ব্যাপারে জানতে দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার এস.এম. মহিউদ্দীন হায়দারের সরকারি মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর