,

21

লক্ষ্মীপুরে নদীতে ওপর বাঁধ দিয়ে ইটভাটার জন্য রাস্তা নির্মাণ

হাওর বার্তা ডেস্কঃ লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ভুলূয়া নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে ইট ভাটার জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে ভাটার মালিক নিজস্ব শ্রমিক দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করেন। নদীতে বাঁধ দেওয়ায় কৃষি নির্ভর চর কাদিরা ইউনিয়নের শত শত পরিবার দুর্ভোগে পড়বে; এতে হাজার হাজার কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যে কোনো মহূর্তে ভাটা মালিকের লোকজনের সঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

আজ রোববার সকালে উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের রব বাজার এলাকায় ভুলূয়া নদী পাড়ে গিয়ে দেখা যায়। নদীর ওই পাড়ে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। ভাটা সংলগ্ন নদী পারাপারে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেই। মালিক ইট বিক্রি ও মাটি সরবরাহের জন্য নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করেন। নদীর দুই পাড় থেকে মাটি কেটেই নির্মাণ করা হয়েছে ওই রাস্তা। নবনির্মিত রাস্তায় উচ্চ মতা সম্পন্ন ট্র্যাক্টর ট্রলি দিয়ে ইট ও মাটি পরিবহনের পায়তারা চলছে।

স্থানীয় প্রভাবশালী মো. আজিজুল হক ফারুক (ফারুক কোম্পানী) নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে ফসলী জমির উপর বাংলা ইটের ভাটা তৈরী করেন। স্থানীয় কৃষকদের জিম্মি করে নামমাত্র মূল্যে আশপাশের জমির উপরের উর্বর মাটি হাতিয়ে নিচ্ছেন। এদিকে, এখন নদীর বুকে বাঁধ দিয়ে নির্মাণ করেছেন রাস্তা।

স্থানীয়রা জানায়, ৪ বছর আগে অবৈধভাবে ফসলি জমিতে ফারুক কোম্পানি ইটভাটা দেন। বিগত বছর গুলোতে নৌকা দিয়ে ইট ও মাটি আনা-নেওয়া করলেও এবার নদী বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

চর কাদিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল হান্নানসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে রাস্তা করায় আগীম বর্ষা মৌসুমে আশপাশের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়বে। এতে দুর্ভোগে পড়বে শত শত পরিবার। ডুবে যাবে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি। শুস্ক মৌসুমে পানি চলাচল বন্ধ থাকলে পানির অভাবে সয়াবিন, মরিচ, তরমুজসহ বিভিন্ন প্রকার শাক সবজি উৎপাদন ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এব্যাপারে জানতে ইটভাটার মালিক আজিজুল হক ফারুকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

স্থানীয় চর কাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খালেদ মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ জানান, নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার বিষয়টি শুনেছি। ইচ্ছা করলে কেউ নদীর উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করতে পারে না। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে।

কমলনগর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) একেএম ছায়েদের রহমান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নদী বাঁধ দেওয়ার সত্যতা পাই। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছি।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমতিয়াজ হোসেনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর