,

26

ঋণের জাকাত কীভাবে দেবেন

হাওর বার্তা ডেস্কঃ  স্ত্রীর মোহরানার টাকা
স্বামীর ওপর ঋণ হলেও এ
ঋণ জাকাতের সম্পদ থেকে বাদ দেয়া যাবে না। (রদ্দুল মুহতার ২/২৬১)। অন্যকে যে টাকা ঋণ দিয়েছেন, যা উঠে আসার সম্ভাবনা প্রবল বা ব্যবসায়ী বাকিতে যে পণ্য বিক্রি করেছেন, সেসব টাকা জাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে মিলিতভাবে হিসাব করলে যদি নিসাব পূর্ণ হয়, তাহলেও
জাকাত দিতে হবে
মুফতি মুহাম্মাদ শোয়াইব

অন্যের কাছে যে ঋণ পাবেন : জাকাতদাতা যে ঋণ অন্যের কাছে পাবেন তার ব্যাপারে বিধান হলো, অন্যের হাতে থাকাকালীন সেই সম্পদে মূল জাকাত ফরজ হবে; কিন্তু এখনই আদায় করা ফরজ হবে না। বরং ওই টাকা হাতে পাওয়ার পর জাকাত আদায় করা আবশ্যক। কেননা সম্পদ তো জাকাতদাতার হাতে নেই। তবে হাতে আসার পর পেছনের বছরের কাজাসহ আদায় করতে হবে। যার কাছে ঋণ পাবেন তিনি সম্পদশালী হলে এবং ঋণ দেয়ার ব্যাপারে কোনোরূপ টালবাহানা করার সম্ভাবনা না থাকলে জাকাতদাতা ইচ্ছা করলে চলমান জাকাতের সঙ্গে সেই ঋণের জাকাতও পরিশোধ করে দিতে পারেন। এতে তার জিম্মা থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। অন্যথায় তা পাওয়ার পর হিসাব করে বিগত প্রত্যেক বছরের জাকাতও আদায় করতে হবে। কেননা তা সম্পদশালী লোকের হাতে ছিল। আর তা তলব করাও সম্ভব ছিল। সুতরাং ঋণদাতার ইচ্ছাতেই তলব করতে দেরি করা হয়েছে। এভাবে অগ্রিম পরিশোধ করলে পরে সেই ঋণ পাওয়ার পর কাজা আদায়ের ঝামেলায় যাওয়া লাগবে না।
একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করা যাক। আবদুল্লাহ ২০১৪ সালে আবদুর রহিমকে ৬০ হাজার টাকা ধার দিয়েছেন। ২০১৭ সালে তিনি আবদুর রহিমের কাছ থেকে তার পাওনা উসুল করতে পেরেছেন। এখন তিনি পেছনের বছরের কাজা আদায় করতে চাচ্ছেন। তাহলে তিনি অন্যান্য সম্পদের জাকাতের সঙ্গে ৬০ হাজার টাকারও জাকাত আদায় করবেন। ২০১৪ সালে দেয়া ৬০ হাজার টাকায় ২০১৫ সালে জাকাত এসেছে ১ হাজার ৫০০ টাকা, ২০১৬ সালে এসেছে ১ হাজার ৫০০ এবং ১৭ সালে এসেছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। তাই ১৭ সালে আবদুল্লাহর ঋণের জাকাত এসেছে মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকা। ১৭ সালে জাকাত প্রদান করার সময় তাকে তার অন্যান্য জাকাতযোগ্য সম্পদের জাকাত প্রদানের পাশাপাশি ঋণের জাকাত ৪ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করতে হবে। তবে ২০১৭ সালে একসঙ্গে কাজা আদায় না করে প্রতি বছরের জাকাত প্রদানের সময়ে এ ঋণের জাকাতও দিয়ে দেয়া যায়। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ১০৩৪৭, ১০৩৫৬, মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৭১১৬, ৭১২৯, ৭১৩১, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ১০৩৪৬, ১০৩৫৬)।
তবে যেসব ঋণ অভাবী লোকের হাতে থাকার কারণে ওঠানোর সম্ভাবনা কম বা ধনী লোকের হাতেই আছে তবে সে টালবাহানা করছে, সেসব ঋণের জাকাত অগ্রিম প্রদান করবেন না।
আর যেসব ঋণ একেবারেই পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে বা পরে হঠাৎ করে পাওয়া যায়, সেসব ঋণ হস্তগত হওয়ার পর ওলামায়ে কেরামের কারও কারও মতে তখন থেকে নতুন করে বর্ষ গোনা শুরু করবে। আবার কেউ বলেন, বিগত এক বছরের জাকাত আদায় করবেন এবং পরবর্তী বছর এলে আবার জাকাত আদায় করবেন। এটাই অত্যধিক সতর্ক অভিমত।
স্বামীর কাছে স্ত্রী যে মোহরানা পায় তা হস্তগত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাতে জাকাত ফরজ হয় না। হস্তগত হওয়ার পর যদি মহিলার কাছে আগে থেকেই জাকাতযোগ্য সম্পদ নিসাব পরিমাণ না থাকে তাহলে এখন থেকে নতুন করে বছর গোনা শুরু করবে। এক বছর পূর্ণ হলে জাকাত আদায় করবে। স্ত্রী মোহরানা পাওয়ার আগ থেকেই যদি নিসাব পরিমাণ টাকার মালিক থাকে তাহলে সদ্যপ্রাপ্ত মোহরানার টাকা অন্যান্য সম্পদের সঙ্গে যোগ হয়ে যাবে এবং পুরনো সম্পদের বছর পূর্ণ হওয়ার পর পুরো সম্পদের জাকাত প্রদান করতে হবে।
অন্যরা যে ঋণ পাবে : ঋণ সাধারণত দুই কারণে নেয়া হয়ে থাকে। ক. মৌলিক প্রয়োজন পূরণের জন্য ঋণ নেয়া। খ. ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ বা উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য ঋণ নেয়া। মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য ঋণ নিয়ে থাকলে তা জাকাতের অর্থ থেকে বাদ দেয়া যাবে। এ ধরনের ঋণ সম্পদ থেকে বাদ দেয়ার পর যদি নেসাব বাকি থাকে জাকাত ফরজ হবে, অন্যথায় ফরজ হবে না। (মুয়াত্তা মালেক ১০৭, মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৭০০৩, ৭০৮৬, ৭০৮৯, ৭০৯০, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৬/৫৪৭-৫৪৮, আদ্দুররুল মুখতার : ২/২৬৩, বাদায়েউস সানায়ে ২/৮৩)
কিন্তু ডেভেলপমেন্ট লোন বা উন্নয়নমূলক ঋণ অর্থাৎ যেসব ঋণ ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য, ভাড়া দেয়া বা বিক্রি করার জন্য ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে নিয়ে থাকে, জাকাতের অর্থ থেকে বাদ দেয়া যাবে না। অর্থাৎ এ ধরনের ঋণের কারণে জাকাত কম দেয়া যাবে না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৭০৮৭)।
বর্তমানে শিল্পপতিরাই এ ধরনের ঋণ বেশি নিয়ে থাকেন। ডেভেলপমেন্ট ঋণ বাদ দিলে অনেক শিল্পপতি আছেন, তাদের ওপর কোনো জাকাতই ফরজ হবে না। কারণ তাদের সম্পদের চেয়ে ঋণের পরিমাণ বেশি। স্ত্রীর মোহরানার টাকা স্বামীর ওপর ঋণ হলেও এ ঋণ জাকাতের সম্পদ থেকে বাদ দেয়া যাবে না। (রদ্দুল মুহতার ২/২৬১)।
অন্যকে যে টাকা ঋণ দিয়েছেন, যা উঠে আসার সম্ভাবনা প্রবল বা ব্যবসায়ী বাকিতে যে পণ্য বিক্রি করেছেন, সেসব টাকা জাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে মিলিতভাবে হিসাব করলে যদি নিসাব পূর্ণ হয়, তাহলেও জাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৭১১১-৭১১৩, ৭১২১, ৭১২৩, ৭১২৮; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ৬/৪৮৪-৪৮৬)।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর