,

kkk

হাওরে ঘরে ঘরে অভাব : কাজের সন্ধানে বাড়ী ছাড়ছে মানুষ

পেটে নেই খানি, ঘরে নেই ছানি। এর মধ্যে মরছে মাছ, বাড়ছে আহাজারী, কাজের সন্ধানে মানুষ ছাড়ছে বাড়ী। হাওরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে এমনি এক দুরাবস্থা। একদিকে মানুষ ফসল হারিয়েছে, অপরদিকে হাওর নদীতে মাছ মরছে। ফসল ডুবার পর এখন মাছে মড়ক দেখা দিয়েছে। হাওর নদীতে- মাছের মড়ক দেখা দেয়ায় অভাবী মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। মৎস্যজীবীরাও নিরুপায়। হাওরাঞ্চলের মানুষের বেঁচে থাকার আর কোন অবলম্বন নেই। দেখা দিয়েছে দারুণ অভাব। এলাকায় কোন কাজও নেই। সকলের ঘরেই অভাব। তাই অভাবের তাড়নায় কাজের সন্ধানে বাড়ী ছাড়ছে মানুষ।
মাছ ও ধান ছিল মানুষের প্রাণ। কিন্তু এবার ধান গেল, মাছও গেল। সব হাড়িয়ে এখানকার মানুষ প্রায় নিঃস্ব। এ জেলার হাওরের ৮০ ভাগ ফসল ইতোমধ্যে ডুবে গেছে। এখন মাছে দেখা দিয়েছে মড়ক। হাওরের ধান গাছ পচে হাওর -নদীর পানি হয়েছে একাকার। পানি হয়ে পড়েছে বিষাক্ত। হাওর- নদীতে মাছ মরে ভেসে ওঠছে। গত কয়েকদিন থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকার নদী ও হাওরে নানা প্রজাতীর মাছ মরছে। মাছ ধরে জীবন চালানোর উপায়ও নেই হাওরাঞ্চলের মানুষের। কৃষকসহ প্রায় সকল মানুষই পড়েছেন দারুণ অভাবে। তাদের হাতে নেই টাকা। ঘরে নেই খানি। ঋণের বোঝা মাথায়। মাছ মরে যাওয়ায় হাওর এলাকার মানুষ পড়েছেন আরো বিপাকে। বাঁচার কোন উপায় না থাকায় দিশেহারা হয়ে বাড়ী ছেড়ে কাজ খুঁজছেন ভাটি অঞ্চলের মানুষ। জীবন-জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছুটে যাচ্ছে অভাবী মানুষেরা।
কিভাবে বাঁচবে এমন দুর্ভাবনার মধ্যে দেখা দিয়েছে মাছে মড়ক। এ ক’দিনে মাছ মরে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের বোঝা তাদের মাথায়। এখন মাছ মরছে। হাওর-নদীতে মাছ নেই। গরীবদের মাছ বিক্রি করে জীবন বাঁচানোরও কোন উপায় নেই। সরকারের ১০ টাকা কেজির ও খোলা বাজারের ১৫ টাকা কেজির চাল সকল অভাবীরা পাচ্ছে না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ নিতান্তই কম। তাই দেখা দিয়েছে প্রকট অভাব। ফসল বিনষ্টের পর, এখন হাওর নদীতে মাছ মরে যাওয়ায় বাঁচার তাগিদে গ্রামের অভাবী মানুষেরা কাজের খোঁজে ঢাকায় ও গাজীপুরসহ সিলেটের বিভিন্ন কোয়ারীতে যাচ্ছেন।গত বুধবার হাওরের পানি খেয়ে পেট ফুলে গাই গরু মারা গেছে। এ ভয়ে তিনি তার অপর ৩টি গরু এলাকায় দিয়ে এসেছেন। গরু বিক্রি করলে প্রকৃত দাম পাওয়া যায় না। গ্রামের লোকজন অভাবে পড়ে সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রামের দিকে কাজের সন্ধানে যাচ্ছে। অপরদিকে হাওরে মাছও মরে শেষ। এখন কী উপায়ে এ এলাকার মানুষ বাঁচবে, তা তাদের জানা নেই। তাছাড়া ১০ টাকা এবং ১৫ টাকা কেজির চাল কেনার সামর্থ নেই অনেকের। মাছ মরে যাওয়ায় গরীবদের বাঁচার উপায় রইলো না। তারা বাঁচার তাগিদে কাজের সন্ধান করছে। এলাকায় কোন কাজও নেই। অনেকে লজ্জা শরমে অন্যের বাড়ীতে কাজও করতে পারে না। বাড়ী ছেড়ে বিভিন্ন গ্রামের মানুষ অভাবে পড়ে কাজের সন্ধানে বাড়ী ছাড়ছে। বেশীরভাগ মানুষ রাজধানী মুখে হচ্ছে। কোন গামেন্টসে কিংবা শিল্প-কারখানায় কাজের আশায়।
এভাবে প্রতিদিনই মানুষ বাড়ী ছাড়ছে অভাবের তাড়নায়। জানা যায়, হাওরাঞ্চলের বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার পর অনেক কৃষকই বর্ষা মৌসুমে হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু গত কয়েকদিনে তলিয়ে যাওয়া সবক’টি হাওরের পানি থেকে পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে এবং পানিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় মাছসহ জলজ প্রাণিও মরে ভেসে ওঠে।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর