,

1

কাউন্সিল নিয়ে টানাপড়েন আওয়ামী লীগে উচ্ছ্বাস ক্ষোভ দুটোই চলছে

জোর প্রস্তুতি চলছে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের। আগামী ২৮ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। কাউন্সিল সফল করতে ইতিমধ্যে ১০টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপ-কমিটিগুলো তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। আধুনিকতা ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি রেখে ‘প্রযুক্তিনির্ভর মঞ্চে’ অনুষ্ঠিত হবে এবারের আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল। গতকাল মঞ্চ সাজসজ্জা উপ-কমিটির প্রথম বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী রবিবার আবার পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কাউন্সিলকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের জেলা সম্মেলন দ্রুত এগিয়ে চলেছে। তবে এই তড়িঘড়ি করে সম্মেলন শেষ করতে গিয়ে অনেকটাই লোকদেখানো সম্মেলন করা হচ্ছে বলে জেলা নেতারা মনে করছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া বেশ কিছু জেলার সম্মেলনের চিত্র পর্যালোচনা করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, প্রত্যেক জেলা ও উপজেলা সম্মেলনে দ্বিতীয় অধিবেশনে কমিটি গঠন করতে হবে। এ ছাড়া প্রয়োজনে ভোট গ্রহণ করতে হবে। এর ব্যতিক্রমও হচ্ছে কোথাও কোথাও। প্রথম অধিবেশনেই কমিটির শীর্ষ নেতাদের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে। কিছু কিছু জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকায় প্রথমে তাদের সমঝোতার প্রস্তাব করা হয়। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় সমঝোতার বৈঠক বসে। সমঝোতা হলে দ্বিতীয় অধিবেশনে কমিটি গঠনের ঘোষণা দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আবার কিছু জেলায় আগে থেকেই একক প্রার্থী থাকায় কাউন্সিলরদের ভোটের প্রয়োজন পড়ছে না। গতকাল বিকালে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে আলহাজ মতিউর রহমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমনের নাম ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তার এ ঘোষণার পরপর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুটের সমর্থকরা প্রতিবাদ করেন। এ সময় উত্তেজনা দেখা দিলে কড়া পুলিশ প্রহরায় অতিথিরা সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। পরে মুকুট সমর্থকরা মঞ্চের চেয়ার ভাঙচুর করেন। সম্মেলন শুরুর আধা ঘণ্টা পর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুহিবুর রহমান মানিক এমপি মঞ্চের সামনে মুকুট সমর্থকদের হাতে লাঞ্ছিত হন। তার মুখ লক্ষ্য করে বালু ছুড়ে মারেন প্রতিপক্ষ গ্রুপের এক কর্মী। নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয় গত মঙ্গলবার। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে যে কোনো সম্মেলনে দ্বিতীয় অধিবেশন করার নিয়ম থাকলেও উদ্বোধনী অধিবেশনে ভোট ছাড়াই জেলা কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। এতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মতিয়ার রহমান খানকে সভাপতি ও আগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরুকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নতুন এ জেলা নেতাদের নাম ঘোষণা করেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৮ বছর পর সম্মেলন হয় কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের। ওই সম্মেলনেও উদ্বোধনী অধিবেশনেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে উভয় পদে দুজনই ভারমুক্ত সভাপতি হন অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজল। ১৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। এ জেলাতেও সম্মেলনের ভোট ছাড়াই আগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল আউয়াল সরকারকে ভারমুক্ত করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। আর মাত্র ছয়টি জেলায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার বাকি রয়েছে। এগুলোরও সম্মেলন করার তারিখ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে। ২৮ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মুজিবুর রহমানকে। তার মধ্যে মুজিবুর রহমান সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। প্রথম অধিবেশন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে ভোট গ্রহণের কথা বলা হলেও তা করা হয়নি। কক্সবাজার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে দ্বিতীয় অধিবেশনে ভোট না নিয়েই কমিটির নাম ঘোষণা করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। গত ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এ সম্মেলনেও দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আবু নঈম পাটোয়ারিকে। সভাপতি করা হয়েছে চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র নাসির উদ্দিন আহমেদকে। এসব এলাকার স্থানীয় নেতারা বলছেন, কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে এভাবে আইওয়াশের মধ্যে দিয়েই শেষ হচ্ছে জেলা সম্মেলন।

মঞ্চসজ্জা কমিটির প্রথম বৈঠক : সম্মেলন প্রস্তুতির উপ-কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। গতকাল বিকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে সাজসজ্জা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। সদস্য সচিব বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, বি এম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, এ কে এম এনামুল হক শামীম, আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, ইকবালুর রহিম, ইসহাক আলী খান পান্না, শাহে আলম, বাহাদুর বেপারি, নাজমা আক্তার, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপ্টন, এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, মশিউর রহমান হুমায়ুন প্রমুখ। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আধুনিকতা ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি রেখেই প্রযুক্তিনির্ভর মঞ্চ সজ্জার কাজ করা হবে। পরবর্তী সভা আগামী রবিবার দুপুর ১টায় ধানমন্ডি ৩/এ প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর