,

image-344139-1599938213

আশাবাদী হওয়ার মতো ঘটনা

হাওর বার্তা ডেস্কঃ গত কয়েকদিনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। তিনদিন আগে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় মিয়ানমারের দু’জন সৈন্য বক্তব্য রেখেছে, তারা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কী কী অপরাধ সংঘটন করেছে। এমনকি কারা কারা তাদের নির্দেশ দিয়েছিল, তাদের নাম-পরিচয়ও প্রকাশ করেছে তারা। এর পরপর মিয়ানমারের আরও দু’জন সৈন্য একইভাবে তাদের দোষ স্বীকার করে বক্তব্য রেখেছে এবং কার বা কাদের নির্দেশে তারা অপরাধ সংঘটন করেছে, তাও প্রকাশ করেছে।

স্বাভাবিকভাবেই এ খবরে আমরা আশাবাদী হয়েছি এই মর্মে যে, এতদিন ধরে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মুখ থেকে তাদের ওপর অন্যায়-অত্যাচারের কথা শুনে আসছে বিশ্ববাসী, এই প্রথমবারের মতো যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের মধ্য থেকে চারজনের স্বীকারোক্তি পাওয়া গেছে।

মিয়ানমারের চার সৈন্যের স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) রোহিঙ্গা নিধনের বিচারিক প্রক্রিয়ায় অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে বৈকি। ইতোমধ্যে মিয়ানমার বলেছে, স্বীকারোক্তি প্রদানকারীদের অপহরণ করে তাদের স্বীকারোক্তি প্রদানে বাধ্য করা হয়েছে। যা হোক, আত্মস্বীকৃত অপরাধীরা এখন আইসিসির আওতায় রয়েছে এবং সময়মতো তারা নিজেরা আদালতে তাদের বক্তব্য পেশ করবে নিশ্চয়ই।

ইতোমধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে আর তা হল, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে (যিনি যুগপৎ প্রতিরক্ষামন্ত্রীও বটে) ফোন করে বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থেকে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে। আমরা প্রথম থেকেই লক্ষ করছি, রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পক্ষে তার অবস্থান ঘোষণা করে আসছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আমরা যখন কোনো প্রস্তাব এনেছি, যুক্তরাষ্ট্র তখনই তাকে সমর্থন করেছে, এমনকি নিরাপত্তা পরিষদেও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের কয়েকজন জেনারেলের ওপর অবরোধ (Sanction) আরোপ করে রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা যখন আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেন, তখন তা এক বড় কূটনৈতিক সাফল্য বলতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের যে Indo-Pacific Strategy, যুক্তরাষ্ট্র তাতে বাংলাদেশের সমর্থন চাচ্ছে। বাংলাদেশ তা সমর্থন করেও বটে, তবে এটিও চায় যে, এ Strategy যেন সামরিক চেহারা নিয়ে আবির্ভূত না হয়। আমরা আসলে চাই আমাদের এ অঞ্চল উত্তেজনামুক্ত থাকুক। Indo-Pacific Strategy যদি আমাদের অঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচন তথা জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে, তাহলেই সেটি অর্থপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর