,

31

খেলতে এসেছি, ফুর্তি করতে নয়: বিরাট কোহলি

হাওর বার্তা ডেস্কঃ চেন্নাই সুপার কিংসের একাধিক ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফের করোনা হওয়ার পর থেকেই বাড়তি সতর্কতা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোর শিবিরে। বেঙ্গালুরুর কোচ মাইক হেসনের মুখে আগেই শোনা গিয়েছে সেকথা। এবার অধিনায়ক বিরাট কোহলিও এ ব্যাপারে কড়া মনোভাব দেখালেন।

আরসিবি একমাত্র ফ্র‌্যাঞ্চাইজি, যারা ক্রিকেটারদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে দলের সঙ্গে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নিয়ে গিয়েছে। তরুণ ক্রিকেটারদের জৈব–সুরক্ষা বলয়ের গুরুত্ব বোঝাতে তাদের সঙ্গে নিজে কথা বলেছেন কোহলি। বলেন, ‘‌ওদের বলেছি, বাড়তি চাপ নেওয়ার কিছু নেই। পরিস্থিতি একেবারেই স্বাভাবিক নয়। তাই পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। টুর্নামেন্টে বায়ো–বাবলের নিয়ম মেনে চলতে হবে। কারণ, আমরা এখানে সবাই ক্রিকেট খেলতে এসেছি, ফুর্তি করতে আসিনি। বর্তমান পরিস্থিতিকে মেনে নিয়েই আমাদের আইপিএলকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রত্যেককে সেটা মেনে চলতে হবে।’‌

নেটে অনুশীলনে নেমে অবশ্য স্বস্তি পেয়েছেন কোহলি। দীর্ধ পাঁচ মাস পরে ব্যাট হাতে নেটে ঢোকার সময় শুরুতে সামান্য নার্ভাস ছিলেন। অতিমারীর প্রকোপে পেয়ে যাওয়া ছুটি উপভোগ করলেও ক্রিকেটকে যতটা মিস করবেন ভেবেছিলেন, বাস্তবে ততটা করেননি বলে দাবি করেছেন বিরাট। বলেন, ‘কতদিন পর ক্রিকেটে ফিরছি!‌ ‌গতকাল প্র‌্যাকটিসে নামার সময় এটা প্রথম অনুভব করি। প্র‌্যাকটিস সেশনে ঢোকার সময় একটু নার্ভাস লাগছিল। একটা ভয় কাজ করছিল। অবশ্য পরক্ষণেই সেটা ঠিক হয়ে যায়। সত্যি বলতে ক্রিকেটকে যতটা মিস করব ভেবেছিলাম, ততটাও করিনি। সম্ভবত নয়–দশ বছর টানা ক্রিকেট খেলছি বলেই এটা হয়েছে। অথচ এটাই ছিল আমার প্রথম ক্রিকেট থেকে বিরতি। সেটাও এত লম্বা ছুটি।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সাল থেকে প্রতি বছর গড়ে ৪০টা করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন কোহলি। এর পাশাপাশি আবার আইপিএলের ম্যাচ ছিল। চলতি বছরে মার্চের মধ্যেই ১৫টি ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছিল তার। এমনকী আগামী তিন বছরের ঠাসা ক্রিকেটসূচির প্রসঙ্গ তুলে গত ফেব্রুয়ারিতেই বিশ্রামের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক। তবে করোনার কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে পাওয়া ছুটি বাড়িতে চুটিয়ে উপভোগ করেছেন বলে জানান কোহলি।

তার কথায়, ‘‌সবচেয়ে বড় কথা আমি আর অনুষ্কা একসঙ্গে এতদিন বাড়িতে ছিলাম। আমাদের পরিচয়ের পর থেকে কখনও দু’‌জন একসঙ্গে এতটা সময় কাটাইনি। এটাই আমাদের একসঙ্গে কাটানো সবচেয়ে দীর্ঘ সময়। প্রিয় মানুষের সঙ্গে নিজের বাড়িতে সময় কাটানোর সুযোগ পেলে, তার থেকে ভাল আর কী হতে পারে!‌’‌ ২০১৬ সালের পর থেকে আইপিএলের প্লে–অফে কখনও ওঠেনি আরসিবি। শুধু তাই নয়, এরমধ্যে দু’‌বার পয়েন্ট তালিকায় সবার শেষে থেকেছে তারা। এবার ছবিটা বদলাতে মরিয়া কোহলি। তাঁর কথায়, ‘‌এবার আমাদের দলের কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফরা ক্রিকেটারদের থেকে কী চায়, সেটা পরিষ্কার করে বলে দিয়েছে। দলের মধ্যে একটা সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সবাই।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর