,

4

বন্যাদুর্গতরা দুর্ভোগে কুড়িগ্রামে ত্রাণ বিতরণে সমন্বয়হীনতা

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কুড়িগ্রামে ত্রাণ নিয়ে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বন্যার অষ্টম দিন পেরিয়ে গেলেও অনেক জায়গায় বানভাসিদের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছেনি। উপজেলাগুলো থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে বরাদ্দ দেয়ার কথা বলা হলেও অনেক জনপ্রতিনিধি বরাদ্দ পাননি। ফলে তারা ভীষণ চাপের মধ্যে রয়েছেন। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দুর্ভোগ কমেনি। টানা আটদিন বন্যার পানি অবস্থান করায় প্রায় দুই লাখ মানুষ দুর্ভোগের শিকার।

এছাড়া অপ্রতুল ত্রাণের কারণে প্রত্যন্ত এলাকায় মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণে নানা অসঙ্গতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বন্যাকবলিত অনেক ইউনিয়নে কম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নাগেশ্বরীর নদীবেষ্টিত দ্বীপ ইউনিয়ন বল্লভের খাসের চেয়ারম্যান আকমল হোসেন জানান, উপজেলা থেকে তার ইউনিয়নে ত্রাণের কোনো বরাদ্দ আসেনি। তবে নাগেশ্বরীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আহমেদ মাছুম জানান, বল্লভের খাসসহ বন্যাকবলিত প্রতিটি ইউনিয়নে ৬০ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছি। বল্লভের খাস ইউনিয়নে দু’দিন আগে আমি ৫০টি পরিবারে ত্রাণ দিয়েছি।

একই অভিযোগ চিলমারীর অষ্টমীর চর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তালেবের। তিনি জানান, ইউনিয়নের তিন হাজার পানিবন্দি পরিবারের জন্য এখনও কোনো ত্রাণ বরাদ্দ পাননি। এ ব্যাপারে ব্যস্ততার কারণে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এডব্লিউএম রায়হান শাহের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম আমিন জানান, ইউনিয়নের দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি। মাত্র ২০০ প্যাকেট ত্রাণ পেয়েছি। এগুলো শনিবার বজরা কলেজ মাঠে বিতরণ করেছি। তিনি বলেন, ৯টি ওয়ার্ডে বিভাজন করতে গিয়ে কোনো কোনো ওয়ার্ডে মাত্র ৮ থেকে ১০টি পরিবারে ত্রাণ দিতে পেরেছি। কিন্তু শত শত পরিবার ত্রাণের জন্য তাকে চাপ দিচ্ছে। এ উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, ইউনিয়নের তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি। বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ৩০০ প্যাকেট। এ ব্যাপারে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাদের জানান, ইউনিয়নগুলোয় কত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সে সংখ্যা তিনি জানেন না। এ ব্যাপারে ত্রাণ বিভাগে খোঁজ নিতে বলেন তিনি। রাজারহাট উপজেলার সবচেয়ে পানিবন্দি ও ভাঙনকবলিত বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে ৭০০ পরিবারের মধ্যে ৪০০ পরিবার ত্রাণ পেয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পানিবন্দি দুই হাজার ১০০ পরিবারের মধ্যে মাত্র ৪০০ পরিবারে ত্রাণ দেয়া সম্ভব হয়েছে। চর রাজিবপুর উপজেলার বন্যাকবলিত তিনটি ইউনিয়নে পানিবন্দি ১৭ হাজার ২৫০টি পরিবার। ত্রাণ বরাদ্দ এসেছে দুই হাজার ৯০০ পরিবারের জন্য। চর রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নবিরুল ইসলাম জানান, বন্যায় রাজিবপুর ইউনিয়নে পাঁচ হাজার পরিবারের মধ্যে এক হাজার ৫০টি পরিবার, কোদালকাটি ইউনিয়নে ছয় হাজার ২৫০টি পরিবারের মধ্যে ৯০০ পরিবার এবং মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে ছয় হাজার পারিবন্দি পরিবারের মধ্যে ৯৫০ পরিবারে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, বন্যার শুরুতে ৩০২ দশমিক ৭২ টন চাল ও ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা উপজেলাগুলোয় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই লাখ টাকা ও দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার পাওয়া গেছে। এগুলো শিগগিরই বন্যার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া দুই কোটি টাকা ও দুই হাজার টন চালের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। সবার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলোয় বরাদ্দ পাঠানো হচ্ছে। কোথাও সমস্যা হলে সমন্বয় করা হবে।

এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কিছুটা কমলেও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকালে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার ও দুধকুমর নদীর নুনখাওয়া পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর পানি ব্রীজ পয়েন্টে ৫৮ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর