,

18

আমার জীবন আমার ঈমান মহানবী (সা.)

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মহানবী (সা.)-এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুহাম্মদ (সা.)-কে রাসুল, হিসেবে বিশ্বাস করা, বিশ্বাসের সাক্ষ্য দেওয়া ও তাঁর ওপর প্রেরিত ইসলামী শরিয়তকে সত্য বলে মেনে নেওয়া ছাড়া কারো ঈমানের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। আর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও নিঃশর্ত আনুগত্য ছাড়া মুমিনের ঈমান পূর্ণতা পায় না।

মহানবী (সা.)-এর ওপর ঈমান অপরিহার্য কেন?

মহানবী (সা.)-এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন বা ঈমান রাখা অপরিহার্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ একাধিক স্থানে রাসুল (সা.)-এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘অতএব তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও যে জ্যোতি আমি অবতীর্ণ করেছি তাতে বিশ্বাস স্থাপন করো। তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত।’ (সুরা তাগাবুন, আয়াত : ৮)

মহানবী (সা.)-এর প্রতি ঈমানের পাঁচ স্তম্ভ

মহানবী (সা.)-এর প্রতি ঈমানের প্রধান দিক হলো নবুয়ত ও তাঁর ওপর প্রেরিত ওহির ব্যাপারে সত্যায়ন করা। মুসলিম ধর্মতাত্ত্বিকরা বিষয়টিকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন। তা হলো—

এক. নবুয়তের দাবি সত্য : মহানবী (সা.) নবুয়ত ও রিসালতের যে দাবি করেছেন, তা সত্য বলে স্বীকার এবং এর সাক্ষ্য দেওয়া প্রতিটি মানুষ ও জিনের জন্য আবশ্যক। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনো এবং তিনি যে কিতাব তাঁর রাসুলের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন তাতে ও আগে অবতীর্ণ কিতাবে ঈমান আনো।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৩৬)

দুই. তিনি সবার নবী : মুহাম্মদ (সা.)-কে কিয়ামত পর্যন্ত আগত সব মানুষ ও ফেরেশতার নবী হিসেবে বিশ্বাস করা এবং তাদের জন্য তাঁর আনীত শরিয়তের আনুগত্য করা আবশ্যক। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার জন্য প্রেরিত আল্লাহর রাসুল।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৫৮)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আপনাকে জগত্গুলোর রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১০৮)

তিন. মুহাম্মদ (সা.) শেষ নবী : আদম (আ.)-এর মাধ্যমে নবুয়তের যে ধারা শুরু হয়েছিল, মহানবী (সা.)-এর মাধ্যমে তা শেষ হয়েছে। তিনি শেষ নবী ও রাসুল। তাঁর পরে আর কোনো নবী বা রাসুল আগমন করবেন না, তাঁর মাধ্যমে ওহির দরজা বন্ধ হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল ও শেষ নবী। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৪০)

সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি শেষ নবী আমার পর আর কোনো নবী নেই।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২২১৯)

চার. যথাযথভাবে দ্বিন পৌঁছে দিয়েছেন : মহানবী (সা.) তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে তিনি কোনো অবহেলা করেননি এবং আল্লাহর যে বাণী ও বিধান তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে, তা যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। আল্লাহর বাণী ও শরিয়তের কোনো বিষয় কোনো গোপন করেননি, বরং সব বিধান ও সব বাণী সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। কোরআনের আয়াত থেকেও বিষয়টির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আল্লাহ বলেন, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বিনকে পূর্ণতা দিলাম। তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করলাম আমার অনুগ্রহ। ইসলামকে তোমাদের জীবনবিধান হিসেবে মনোনীত করলাম।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৩)

উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরবিদরা বলেন, ‘এই আয়াত প্রমাণ করে রাসুলুল্লাহ (সা.) পরিপূর্ণভাবে দ্বিন পৌঁছে দিয়েছেন। কেননা পরিপূর্ণভাবে দ্বিন পৌঁছে দেওয়া ছাড়া তা জীবনবিধান হিসেবে পূর্ণতা লাভ করতে পারে না। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যে বিধান দান করেছেন তাঁর রাসুল পরিপূর্ণরূপে তা পৌঁছে দিয়েছেন।’ (হুকুকুন-নবী, পৃষ্ঠা ১১৯)

বিদায় হজের ভাষণে মহানবী (সা.) বলেন, ‘আমার ব্যাপারে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে। তোমরা তখন কী বলবে?’ তারা (সাহাবারা) বলল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনি যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছেন, আপনার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সদোপদেশ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) আসমানের দিকে আঙুল তুলে তিনবার বললেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১২১৮)

পাঁচ. তিনি নিষ্পাপ : পৃথিবীর অন্য সব নবী ও রাসুলের মতো মহানবী (সা.)ও নিষ্পাপ ছিলেন। তিনি সব ধরনের ভুলত্রুটি ও পাপ-পঙ্কিলতার ঊর্ধ্বে ছিলেন। কখনো আল্লাহর প্রত্যাশার বিপরীত কোনো কাজ তাঁর মাধ্যমে প্রকাশ পেলে আল্লাহ ওহির মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করে দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি নিজের থেকে কিছুই বলেন না, তবে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন।’ (সুরা : নাজম, আয়াত : ৩)

মুসলিম ধর্মতাত্ত্বিকরা বলেন, ‘নবীদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হলো, তিনি তাঁদের শুধু কল্যাণের পথে পরিচালিত করেছেন এবং মন্দ কাজ থেকে দূরে রেখেছেন, যদিও পরীক্ষার জন্য তাঁদের ইচ্ছাশক্তি অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছিল।’ (নাসিমুর রিয়াদ : ৪/৩৯)

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর