,

21

জাকার্তায় বন্যা: নিহত বেড়ে ২১, শহর ছেড়েছে ৩০ হাজার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ  ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অতি বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ হয়েছে। ঘর-বাড়ি বন্যা প্লাবিত হওয়ায় শহর ছেড়ে পালিয়েছে আরো ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও আল জাজিরা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়ান জানায়, বন্যা, ভূমিধস ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বুধবার জাকার্তায় এত বেশি সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বুধবার দিনগত রাতেই মারা গেছে কমপক্ষে আরো নয়জন। ফলে বন্যার কারণে সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১য়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া বন্যার পানিতে শহর প্লাবিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে ঘরবাড়ি ছেড়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে আরো ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে।

এর আগে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা জানায়, মঙ্গলবার রাতে জাকার্তার বাসিন্দারা যখন পটকা আর আতশবাজি ফুটিয়ে নতুন বছর উদযাপনে মগ্ন ছিলো তখনই শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। আকস্মিক বৃষ্টির ফলে গোটা শহর বন্যায় প্লবিত হয়। শহরের কোনো কোনো এলাকায় ১০ ফুটের মতো পানি জমেছে।

রানওয়েতে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করায় শহরের আভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে সেখানে আটকা পড়েছেন ২০ হাজারের বেশি যাত্রী। বন্যার জলে সড়কগুলো প্লাবিত হওয়া যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শহরের রেলওয়ে ব্যবস্থাও। জলমগ্ন হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন ঘরবাড়ি ও ভবনও।

বন্যায় যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অনেক স্থানে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে পানি ও বিদ্যুৎ সঙ্কটে পড়েছে রাজধানীবাসী।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র আগুস উইরোউ জানান, মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে রাজধানীর আশপাশের কমপক্ষে ৯০টি এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ভূমিধস হয়েছে রাজধানীর বাইরের কোতা দেপক শহরেও।

বুধবার প্রাথমিকভাবে জাকার্তা ও আশপাশের এলাকায় বন্যায় কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছিলেন ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে আটজনই জাকার্তার বাসিন্দা।

সংস্থার মুখপাত্র আগুস উইরোউ আরো জানান, নিহতদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী একজন স্কুলছাত্রও রয়েছে। জাকার্তায় ওই কিশোরসহ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে মোট চারজন। বন্যার কারণে অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন আরো ৩০ হাজারের মতো মানুষ।

টেলিভিশন ফুটেজ এবং স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, রাস্তায় কাদার মধ্যে আটকা পড়ে আছে কয়েক ডজন গাড়ি। রাবার বোটে করে বন্যার্তদের উদ্ধার করছেন সেনা ও উদ্ধারকর্মীরা। বন্যার কারণে বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন জাকার্তার বহু মানুষ। সেখান থেকে শিশু ও বয়স্কদের বের করে আনতে গলদঘর্ম হচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

বন্যা দুর্গতদের উদ্ধারে মোতায়েন করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজারের মতো উদ্ধারকর্মী। তারা ইতিমধ্যে রাজধানী জাকার্তা থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে গেছেন। কর্তৃপক্ষ শহরের লোকজনকে সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, গোটা বর্ষা মৌসুম জুড়ে জাকার্তা বন্যা চলতে পারে। দেশটিতে বর্ষা মৌসুম শেষ হবে আগামী এপ্রিলে।

প্রসঙ্গত, জাকার্তার লোকসংখ্যার ধারণ ক্ষমতা ১ কোটি। কিন্তু সেখানে বসবাস করছেন ৩ কোটির মতো মানুষ।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর