দুই উদযাপনে বাংলাদেশের অংশীদার হতে চায় ভারত

হাওর বার্তা ডেস্কঃ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনে বাংলাদেশের অংশীদার হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে ভারত। শুক্রবার নয়া দিল্লিতে সফররত রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠককালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেয়া নরেন্দ্র মোদি এই আগ্রহের কথা জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদিন গণমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার  দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউজে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মের শত বছর এবং পরের বছর ২৬ মার্চ বাংলাদেশ উদযাপন করবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।

প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনে দুই দেশ যৌথ উদ্যোগ নিলে তা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পাবে বলে মত প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রেও তা ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

জয়নাল আবেদিন বলেন, নরেন্দ্র মোদি আবারও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় বৈঠকে তাকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ভারতের জনগণ তার (মোদি) প্রতি যে আস্থা রেখেছে, সেই প্রত্যাশা তিনি পূরণ করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার তরফ থেকেও নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি। সেই সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

প্রেস সচিব বলেন, রাষ্ট্রপতি শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তাকে স্পর্শ করেছে। আর দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে এবং সেজন্য দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

সচিব বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, তিস্তাসহ দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টনের বিষয়টির সমাধান হওয়া উচিত বলে ভারত মনে করে। সেজন্য যৌথ নদী কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ সমস্যা শুধুমাত্র বাংলাদেশর একার নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য নিরাপত্তা হুমকি। এ সমস্যার সমাধানে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মোদি বলেন, ভারতও মনে করে এটা বাংলাদেশের একার সমস্যা না। একটি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য ভারত সব সময় আন্তর্জাতিক ফোরামে সোচ্চার থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

আব্দুল হামিদ ও নরেন্দ্র মোদি উভয়েই দুই দেশের বাণিজ্য বিনোয়োগ সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জয়নাল আবেদিন জানান।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর