,

12

মা সন্তানের বেহেশত ও দোজখ

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সন্তানের এ পৃথিবীতে আসতে মায়ের সীমাহীন কষ্টের কথা কোরআনে বিবৃত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন ‘মা সন্তানকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভধারণ করেন এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে; সুতরাং আমার (আল্লাহর) প্রতি এবং তোমাদের মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।’ (সূরা লুকমান : ১৪)

মায়ের অসিলাতেই মানুষের আগমন পৃথিবীতে। মায়ের কোলে বসেই প্রথম পৃথিবী দেখা। আকাশের পানে তাকানো। মা-ই মানুষের প্রথম আশ্রয়। দয়াময় আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠতম নেয়ামত মা। মা সন্তানের জীবনের অবিচ্ছেদ অংশ। মা ছাড়া পৃথিবী প্রাণহীন দেহের মতো। মায়ের মমতা-ভালোবাসায় সন্তান বেড়ে ওঠে। আমাদের প্রাণের ধর্ম ইসলামে মায়ের মর্যাদা অতুলনীয়-অসামান্য। অনন্য উচ্চতায় মায়ের স্থান। ইসলামের বিধান মতে, দয়াময় আল্লাহর পরই মা-বাবার স্থান।

মহান আল্লাহ তাঁর কালামে পাকে বলেন ‘তোমার পালনকর্তা আদেশ দিয়েছেন, তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করো। তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের ‘উফ’ বলো না এবং ধমক দিও না। তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলো। মমতাবশে তাদের প্রতি নম্রতার পক্ষপুট অবনমিত করো এবং বলো, ‘হে আমার পালনকর্তা! তাদের প্রতি রহম করো যেরূপ দয়ামায়া দিয়ে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ২৩-২৪)।

সন্তানের এ পৃথিবীতে আসতে মায়ের সীমাহীন কষ্টের কথা কোরআনে বিবৃত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন ‘মা সন্তানকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভধারণ করেন এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে; সুতরাং আমার (আল্লাহর) প্রতি এবং তোমাদের মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।’ (সূরা লুকমান : ১৪)। অন্যত্র আরও বলেন ‘আর আমি (আল্লাহ) মানবজাতিকে নির্দেশ দিয়েছি তারা যেন তাদের মা-বাবার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করে; তার মা তাকে অতিকষ্টে গর্ভে ধারণ করেছেন ও অতিকষ্টে প্রসব করেছেন এবং লালন-পালন করেছেন।’ (সূরা আহকাফ : ১৫)। ‘আর তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না এবং মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ করো।’ (সূরা নিসা : ৩৬)।
এসব আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, মহান আল্লাহর ইবাদতের পরই মা-বাবার সঙ্গে সুন্দর আচরণ ও সদ্ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে।

বস্তুত ইসলাম মায়ের সম্মান, মর্যাদা ও অধিকারের প্রতি সীমাহীন গুরুত্বারোপ করেছে, অন্য ধর্ম ও সভ্যতায় যার উদাহরণ নেই। যেমন এক হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমার সবচেয়ে বেশি ভালো ব্যবহার পাওয়ার উপযুক্ত লোকটি কে? তিনি বললেন, তোমার মা; লোকটি বলল, তারপর কে? তিনি বললেল, তোমার মা; লোকটি বলল, তারপর কে? তিনি বললেল, তোমার মা; লোকটি আবারও বলল, তারপর কে? বললেন, তোমার বাবা।’ (ইমাম বোখারি, আল-আদাবুল মুফরাদ : ৫৯৭১, মুসলিম : ৮৫)।

আরেক হাদিসে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর তায়ালার কাছে সর্বাধিক পছন্দনীয় আমল কোনটি? উত্তরে তিনি বললেন, ‘সময়মতো নামাজ আদায় করা। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, মা-বাবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা; আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।’ (বোখারি : ৫৯৭০)।

সন্তানের ওপর অলঙ্ঘনীয় কর্তব্য হলো, মায়ের অধিকার যথাযথভাবে আদায় করা, মাকে সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া, মায়ের সঙ্গে থাকা, মায়ের সেবাযত করা, সবসময় তার সম্মান ও অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সচেতন থাকা। হজরত আবু উমামা (রা.) বলেন, একবার এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! সন্তানের ওপর মা-বাবার কী অধিকার রয়েছে? নবীজি (সা.) বললেন, ‘মা-বাবাই তোমার বেহেশত, মা-বাবাই তোমার দোজখ।’ (ইবনে মাজাহ : ৩৬৬২)।

সন্তানের জীবনে মায়ের গুরুত্ব সম্পর্কে নবীজির এ হাদিসের চেয়ে বড় কোনো দলিলের প্রয়োজন নেই। হাদিসে বর্ণিত, মা-বাবার সন্তুষ্টি ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া কঠিন। আসুন পবিত্র মাহে রমজানে মা-বাবার সূত্রে আমাদের বেহেশত বা দোজখ নির্ণয় করে নিই।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর